প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
ম্যাক্স হাসপাতালের মালিকানা নেই, অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত ডা. ইসমাইল
রাহিম হোসেন,, চাপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:: ||
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন দাবি করেছেন, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগ বর্তমানে সঠিক নয়। তাঁর ভাষ্য, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্টই তিনি হাসপাতালটির সব শেয়ার ও মালিকানা তাঁর বন্ধু মো. রবিউল ইসলাম (রবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে ম্যাক্স হাসপাতালের সঙ্গে তাঁর কোনো মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ নেই।এর আগে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডা. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে। গত ৫ জুলাই ২০২৬ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।জানা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত থাকা অবস্থায় ডা. ইসমাইল হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালের অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর পর স্বাস্থ্য বিভাগের একটি তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়।তবে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরই তিনি নিজের মালিকানাধীন পাঁচটি প্রাইমারি শেয়ার কোনো আর্থিক প্রতিদান ছাড়াই হেবা (দানপত্র) দলিলের মাধ্যমে তাঁর বন্ধু মো. রবিউল ইসলাম (রবি)-এর কাছে স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করেন।তিনি বলেন, “সরকারি চাকরির বিধির প্রতি সম্মান জানিয়েই গত বছরের আগস্টে আমার সব শেয়ার বন্ধুর কাছে দিয়ে দিই। বর্তমানে ম্যাক্স হাসপাতালে আমার কোনো মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ নেই।”হেবা দলিল সূত্রে জানা যায়, সরকারি চিকিৎসক হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অংশীদার থাকা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় তিনি তাঁর সব শেয়ার বন্ধুর কাছে স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করেন। দলিলে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট থেকে হস্তান্তর কার্যকর হবে এবং ওই তারিখ থেকে শেয়ার-সংক্রান্ত সব অধিকার, লভ্যাংশ ও সুবিধা গ্রহীতা ভোগ করবেন। দলিলটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজ আদালতের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হয়।ডা. ইসমাইল আরও দাবি করেন, গত ৩ জুন তদন্ত কমিটি হাসপাতাল পরিদর্শনে এলেও তাঁর কাছ থেকে কোনো কাগজপত্র চাওয়া হয়নি। ফলে তদন্তে হালনাগাদ তথ্যের পরিবর্তে পুরোনো নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজসহ লিখিত জবাব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন।ডা. ইসমাইল বলেন, “আমি নির্দোষ। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আশা করি, প্রকৃত তথ্য বিবেচনা করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত