প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
সোনাতলায় দুই গাভীর মৃত্যু: পল্লী প্রাণিচিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
আব্দুল্লাহ আল জাকারিয়া, , সোনাতলা প্রতিনিধি:: ||
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় কুকুরের কামড়ে আহত দুটি গাভীকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনায় এক পল্লী প্রাণিচিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক খামারি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগকারী সাইফুল ইসলাম উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ আকন্দ (চেনু)-এর ছেলে। তিনি জানান, গত ১৭ জুন সকালে বাড়ির পাশে গাছের সঙ্গে বাঁধা থাকা তার দুটি গাভীকে একটি কুকুর কামড় দেয়।পরে চারালকান্দি এলাকার পল্লী প্রাণিচিকিৎসক পরিচয়দানকারী বুলু মিয়া ও তার ছেলে ভেলু মিয়াকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে গাভী দুটিকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, গাভী দুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়ে তারা ভ্যাকসিন বাবদ ৪ হাজার টাকা নেন।তার দাবি, প্রথম দফা ভ্যাকসিন দেওয়ার কয়েক দিন পর থেকেই গাভী দুটির মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়তে শুরু করে। পরে দ্বিতীয় দফায় আবার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। বিষয়টি চিকিৎসকদের জানালে তারা উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন। তবে বুধবার (৮ জুলাই) একটি গাভী এবং পরদিন বৃহস্পতিবার অপর গাভীটিও মারা যায়। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ ঘটনায় তিনি সোনাতলা থানায় বুলু মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে বুলু মিয়া ও তার ছেলে ভেলু মিয়া বলেন, কুকুরের কামড়ের পর নিয়ম মেনেই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে এবং ভ্যাকসিন বাবদ ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ভেলু মিয়া বলেন, ভ্যাকসিনে কোনো ত্রুটি থেকে থাকলে সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি ন্যাশনাল এগ্রিকালচার প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিচিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “যদি জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুর গরুকে কামড়ে থাকে, তাহলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে প্রাণীর শারীরিক অবস্থা, উপসর্গ ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া উচিত ছিল।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হাসান বলেন, হাতুড়ে প্রাণিচিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা না নেওয়াই ভালো। অচিরেই এ ধরনের হাতুড়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কিছু হাতুড়ে প্রাণিচিকিৎসকের কারণে এর আগেও একাধিক খামারি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত