প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
রাঙামাটিতে দুর্যোগ সতর্কতা, ৮০৪ জন আশ্রয়ে, সাজেকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ
মো. নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি:: ||
টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ১০ উপজেলায় ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সাজেক ভ্যালীসহ জেলার সব পর্যটন স্পটে ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই ও বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৮০৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে আশ্রিতদের জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।এদিকে টানা বর্ষণে রাঙামাটি পৌরসভার তবলছড়ি, ওমদামিয়া হিল রোড, মুসলিমপাড়া, ভেদভেদীসহ কাউখালী, বাঘাইছড়ি, বরকল, কাপ্তাই এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে, কয়েকদিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে মোট বৃষ্টিপাত ৩৭৫ মিলিমিটারে পৌঁছালে এবং ঘণ্টায় গড়ে ৮ দশমিক ১০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেড়ে যায়।রাঙামাটি সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ঘণ্টায় গড় বৃষ্টির হার ছিল ১১ দশমিক ৯৫ মিলিমিটার, যা ঝুঁকির নির্ধারিত মাত্রার চেয়েও বেশি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান গতিতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত রাঙামাটিসহ পার্বত্য এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় চলাচল ও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।অন্যদিকে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানান, দিঘীনালা–বাঘাইহাট–সাজেক সড়কের একাধিক নিচু স্থানে পাহাড়ি ঢলের পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে বিভিন্ন রিসোর্ট, কটেজ ও আবাসনকেন্দ্রে থাকতে বলা হয়েছে।তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সড়কের পানি নেমে গেলে এবং যাতায়াত নিরাপদ হলে পর্যায়ক্রমে পর্যটকদের নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠানো হবে।
দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালীসহ রাঙামাটির সব পর্যটন স্পটে ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে নতুন কোনো পর্যটককে পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সর্বসাধারণকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত