প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
গঙ্গাচড়ায় কোটি টাকার সড়ক, শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেল
মেহেদি হাসান মুরাদ,, গংগাচড়া প্রতিনিধি ||
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন একটি হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত এইচবিবি-ডব্লিউডি-৪১৩ প্যাকেজের অধীনে গঙ্গাচড়ার তিনটি স্থানে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৬১৩ টাকা।সরেজমিনে দেখা যায়, বেতগাড়ী শাহপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বানিয়াপাড়া পাকা রাস্তা মসজিদ পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট বসে গেছে এবং কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। কিছু অংশে সংস্কারকাজ চললেও কয়েকটি স্থানে শুধু বালু দিয়ে বসে যাওয়া অংশ সমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত ৬ ইঞ্চি বালুর পরিবর্তে অনেক স্থানে প্রায় ৩ ইঞ্চি বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করায় রাস্তার গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।স্থানীয় ভ্যানচালক গোলদার হোসেন বলেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তা দেবে যাওয়ায় প্রতিদিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।বাসিন্দা মনিসুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তিনি নিম্নমানের অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানান।শাহপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম কাল্টু বলেন, কোটি টাকার প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।উত্তর পানাপুকুর এলাকার জাহানুর রহমান বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালেই অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছিল। এখন রাস্তা দেবে যাওয়ায় সেই অভিযোগের সত্যতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম। তিনি নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ইট পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, প্রকল্পটির কাজ ১০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত