প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
শিক্ষক কর্তৃক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: এলাকায় চরম ক্ষোভ
নারায়ন চন্দ্র রায়, , দিনাজপুর প্রতিনিধি:: ||
দিনাজপুরের খানসামায় একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১২) যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্ন বুঝিয়ে দেওয়ার অজুহাতে ডেকে নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে খানসামা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট,থানায় দায়ের করা এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের আলোকঝাড়ী জুম্মাপাড়া গ্রামের এক বাসিন্দা ও স্থানীয় দারুল কোরআন মডেল মাদ্রাসার ছাত্রীর বাবা এই অভিযোগ দায়ের করেন। তার মেয়ে আলোকঝাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতেও অধ্যয়ন করে এবং বর্তমানে সেখানে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তারিখ ও সময়: গত ৬ জুলাই, সকাল আনুমানিক ১০টা। স্থান:আলোকঝাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষ। বিষয়: ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন ঘটনা।ভুক্তভোগী ছাত্রী জানায়, পরীক্ষা চলাকালে একটি প্রশ্ন বুঝতে না পেরে সে কক্ষে দায়িত্বরত সহকারী শিক্ষক মো. ওয়াহেদ আলীর শরণাপন্ন হয়। তখন ওই শিক্ষক প্রশ্ন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ডাকেন। ছাত্রীটি সরল বিশ্বাসে অফিসকক্ষে প্রবেশ করার পরপরই শিক্ষক ওয়াহেদ আলী তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরেন। একপর্যায়ে মুখের হিজাব খুলে জোরপূর্বক গাল ও ঠোঁটে চুম্বন করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে শ্লীলতাহানি করেন।ভীতি প্রদর্শন ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা,এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আকস্মিক এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ছেড়ে দেন। একই সাথে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেন।ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ,কক্ষ থেকে কোনোমতে বের হয়ে ছাত্রীটি বিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষিকাকে বিষয়টি অবগত করে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সহকারী শিক্ষক তপেশ চন্দ্র রায়ের কাছে নিয়ে যান। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাকে শান্ত করে পরীক্ষা শেষ করতে বলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ওই ছাত্রীকে পুনরায় অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরিবারের কাউকে না জানানোর জন্য নানাভাবে চাপ ও পরামর্শ দেন।পরিবারের অবস্থান ও আইনি পদক্ষেপ,বিদ্যালয় থেকে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে ভুক্তভোগী ছাত্রীটি তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ শেষে সামাজিক ও আইনি বিচারের দাবিতে ছাত্রীর বাবা খানসামা থানায় লিখিত এজাহার জমা দেন।বাদীর দাবি, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই কর্মকাণ্ড পরিষ্কারভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নের শামিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্যঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ওয়াহেদ আলী পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে খানসামা থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত