প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
কেসিসিতে বানিজ্যে : কোটি টাকা লুটে অবসরের চেষ্টা প্রধান সহকারীর
মোঃ রবিউল হোসেন খান, , খুলনা প্রতিনিধি:: ||
খুলনা সিটি করপোরেশন ( কেসিসি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে পুজি করে চাকুরী প্রত্যাশিদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক ভয়াবহ জালিয়াতির খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের সর্বশান্ত করে বিপুল অংকের এই অবৈধ অর্থ পকেটে পুরে এবার সবধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধা নিয়ে নির্বিঘ্নে সটকে পড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন মুল অভিযুক্ত কর্পোরেশনের প্রশাসনিক শাখার প্রধান সহকারী মোঃ নাঈমুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক গুরুতর অভিযোগ কেসিসির নিজস্ব তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলার পর, চলতি সপ্তাহেই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কতৃপক্ষ। পেনশনের টাকা রেহাই পায়নি নাঈমের খপ্পর থেকে : অনুসন্ধানে জানাযায়, কেসিসির শুন্যপদে স্থায়ী ও অস্থায়ী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১২ জন চাকুরী প্রত্যাশিকে টার্গেট করেন নাঈমুজ্জামান। কাউকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, কাউকে আবার উচ্চমান সহকারী পদের লোভ দেখিয়ে জন প্রতি ৭০ হাজার থেকে শুরু করে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন তিনি। তার পাতা ফাদের অন্যতম নির্মম শিকার কেসিসির অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী ভারতীয় মন্ডল। নিজের ছেলে জয়ন্ত মন্ডলের স্থায়ী চাকুরীর আশায় সারা জীবনের উপার্জিত পেনশন পুরো ১৮ লাখ টাকাই তুলে দিয়েছিলেন সহকর্মী নাঈমুজ্জামানের হাতে। একইভাবে উচ্চমান সহকারী পদের জন্য নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি ও ধার দেনা করে ১৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন মোঃ শাহাদাৎ হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী। চাকুরী তো দুরের কথা, টাকা ফেরত চাইলে চেক বাউন্স হওয়া বা ভুয়া চেক দিয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়েছে ভুক্তভোগীদের। শাহাদাৎ হোসেনকে দেওয়া জনতা ব্যাংক ও ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ডিজঅনার হয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন অফিসে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। বাঁচতে স্বেচ্ছায় অবসর ও আর্থিক সুবিধার চাতুর্য : চাকুরী প্রত্যাশিদের কান্নায় যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত, তখন অপরাধ আড়াল করতে এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে গত জুন মাসে চতুরতার আশ্রয় নেন নাঈমুজ্জামান। নিজেকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে তিনি তড়িঘড়ি করে " স্বেচ্ছায় অবসরের ( ভিআরএস) আবেদন জমা দেন। শুধু তাই নয়, কোটি টাকা লোপাটের পরও নিলজ্জের মতো সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি সহ সব ধরনের আর্থিক সুবিধা দাবি করেছেন তিনি। এমনকি কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের সিএ(গোপনীয় সহকারী) মুজানুর রহমানের এক আত্মীয় রেহায় পাননি নাঈমের হাত থেকে। তার কাছ থেকেও সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বহু তাগাদা ও কৌশলে উদ্ধার করা হয়। গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত, চলতি সপ্তাহেই বিভাগীয় মামলা : বিষয়টি নিয়ে তোরজোড় সৃষ্টি হলেও ভুক্তভোগী ভারতী মন্ডল আদালতে মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি মো: খেরশেদ আলম, মোঃ শাহাদাৎ হোসেন ও মো: সিরাজুল ইসলাম সহ চারজন ভুক্তভোগী কেসিসি কতৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এবিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ভেটেনারি কর্মকর্তা ডা: পেরু গোপাল বিশ্বাস। তবে কেসিসির সচিব মোঃ রেজা রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান,নাঈমুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর লিয়াজো কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হয়েছে এবং চাকুরী দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়ার প্রাথমিক সত্যাতা মিলেছে। তার বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। এই গুরুতর অভিযোগ নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার অবসরের আবেদন বা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে অভিযুক্ত নাঈমুজ্জামানের মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। কেসিসির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার দীর্ঘ দিন ধরে নাকের ডগায় বসে প্রকাশ্যে নিয়োগ বানিজ্যে কিভাবে চলল তা নিয়ে এখন নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি শুধু বিভাগীয় মামলা নয়, দ্রুত এই প্রতারকে গ্রেফতার করে তাদের আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত