প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
শিল্পবর্জ্যে কালো হয়ে গেছে কেশবপুরের খাল
নিজস্ব প্রতিবেদক:: ||
হবিগঞ্জের
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কেশবপুর গ্রামের একসময়ের স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত খালটি
এখন শিল্পবর্জ্যে দূষিত হয়ে প্রায় মৃতপ্রায়। কালো
পানিতে ভরে যাওয়া খাল থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে
জনস্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ মারাত্মক
হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।স্থানীয়দের
ভাষ্য, একসময় এই খালের স্বচ্ছ পানি দিয়ে মানুষ হাত-মুখ ধোয়াসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজ করতেন। কৃষকরা
জমিতে সেচ দিতেন, গবাদিপশুকে গোসল করাতেন এবং খালটি ছিল দেশীয় মাছের অন্যতম আবাসস্থল। বিকেলে
খালের পাড়জুড়ে থাকত শিশু-কিশোরদের কোলাহল। কিন্তু
বর্তমানে সেই খালের পানির রং কালো হয়ে গেছে এবং দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।স্থানীয়দের
অভিযোগ, এলাকার শিল্পকারখানা, বিশেষ করে স্কয়ার ও বাদশা কোম্পানির
শিল্পবর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে এই খালে নির্গত হওয়ায় পানিদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দূষণের
কারণে খালের মাছ প্রায় বিলুপ্ত, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে এবং গবাদিপশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি
গ্রামের শিশুরা অজান্তেই দূষিত পানিতে নেমে খেলাধুলা করায় তারা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।কৃষকদের
অভিযোগ, দূষিত পানি আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ায় মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে
দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি
ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ হারাচ্ছে। দ্রুত
কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে খালটির অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।এলাকাবাসীর
দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে
জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মতো
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন এই নীরবতা?তাদের
দাবি, অবিলম্বে দূষণের উৎস শনাক্ত করে খালে শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ করতে হবে। একই
সঙ্গে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের পানি ও পরিবেশগত মান
পরীক্ষা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং খাল পুনরুদ্ধারে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।পরিবেশবিদদের
মতে, একটি খাল শুধু পানিপ্রবাহের উৎস নয়; এটি একটি অঞ্চলের কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ
অংশ। তাই
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।স্থানীয়
বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দূষণের প্রকৃত কারণ তদন্ত করবে, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনবে এবং একসময়ের প্রাণবন্ত এই খালকে দূষণমুক্ত করে পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত