প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
রাজশাহীর আঙুর বাগানে লাখো টাকার সাফল্য, বাড়ছে তরুণ কৃষকের আগ্রহ
মো: গোলাম কিবরিয়া,, রাজশাহী প্রতিনিধি:: ||
স্ট্রবেরি, মাল্টা ও ড্রাগনের পর এবার রাজশাহীতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে মিলছে আশাব্যঞ্জক সাফল্য। অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় দিন দিন বাড়ছে আঙুর বাগানের পরিধি। এতে নতুন করে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তরুণ কৃষক ও উদ্যোক্তারা।রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের তরুণ কৃষক ও প্রকৌশলী ইমাম হোসেন সাগরের ৩ বিঘার আঙুর বাগান এখন সাফল্যের উদাহরণ। বাগানে বাইকুনুর, অ্যাপোলো, দাসুনিয়া, অস্ট্রেলিয়ান কিংসহ ৮টি জাতের আঙুর চাষ করা হয়েছে। সবুজ, খয়েরি ও কালচে রঙের থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আঙুরে নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।ইমাম হোসেন জানান, যশোরে সফল আঙুর বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বাগান গড়ে তোলেন। চলতি মৌসুমে ৩৬০টি গাছ থেকে তিনি ৭ হাজার ২১ কেজি আঙুর উৎপাদন করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।জেলার তিনটি উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ জন কৃষক ৩ হেক্টর জমিতে আঙুর চাষ করছেন। তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন উদ্যোক্তারাও পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। প্রতিদিনই বাগান দেখতে ভিড় করছেন আগ্রহী কৃষক ও দর্শনার্থীরা।শুধু আঙুর উৎপাদন নয়, এসব বাগানে চারা উৎপাদনও লাভজনক হয়ে উঠেছে। গাছের কাটিং থেকে তৈরি প্রতিটি চারা ২৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারা বিক্রি থেকেই বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় করছেন উদ্যোক্তারা।রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে আঙুরের চাষ হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে দেশীয় আঙুরের সরবরাহ বাড়ানো গেলে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আঙুর গাছের আয়ুষ্কাল প্রায় ৩০ বছর। পরিচর্যা ব্যয়ের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় রাজশাহীতে বাণিজ্যিক আঙুর চাষের সম্ভাবনা দিন দিন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত