প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
সৈয়দপুর খাদ্য গুদামে ধান বিক্রিতে টনপ্রতি ২ হাজার টাকা কমিশনের অভিযোগ
শাহজাহান আলী মনন, , নীলফামারী প্রতিনিধি:: ||
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে (এলএসডি) সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে টনপ্রতি ২ হাজার টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কমিশন দিলে ধানের মান যাচাই ছাড়াই দ্রুত ধান গ্রহণ ও বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। আর কমিশন না দিলে ধানের আর্দ্রতা নিয়ে নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সৈয়দপুরে ৮২৬ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে আবেদনকারী ৭৯৮ জনের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ৪১৪ জন কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন। প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ ২ মেট্রিক টন ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। সরকার নির্ধারিত দরে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা। এ পর্যন্ত ৬০৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ধানের আর্দ্রতার হার সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ হতে হবে। কৃষকদের অভিযোগ, এই শর্তকেই কমিশন আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।কৃষক আসাদুজ্জামান লাবু অভিযোগ করেন, ধান বিক্রি করতে গিয়ে তাকে টনপ্রতি ১ থেকে ২ হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়েছে। এছাড়া খাদ্য গুদামের ভেতরে বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে ধান শুকানোর নামে প্রতি টনে আরও ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। নিজের ও বোনের মোট ৬ মেট্রিক টন ধান বিক্রির জন্য তাকে প্রায় ৯ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।আরেক কৃষক মোশাররফ হোসেন বলেন, আর্দ্রতার অজুহাতে তার ধান আটকে রাখা হলেও কমিশন দেওয়া অন্যদের ধান সহজেই গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন পাইকার নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সুবিধা পেয়েছেন।স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, তালিকাভুক্তদের মধ্যে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা কম। বরং পাইকার, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন সুবিধাভোগী কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করে সুযোগ পেয়েছেন। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অনিমেষ কুমার সরকার। তিনি বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে কিছুটা বেশি আর্দ্রতার ধান বৈদ্যুতিক পাখার সাহায্যে শুকিয়ে গ্রহণ করা হচ্ছে। কমিশন নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, প্রকৃত কৃষক নাকি অন্য কেউ-তার চেয়ে বরাদ্দ অনুযায়ী ধান সংগ্রহ সম্পন্ন করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুরো প্রক্রিয়া সরকারি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল আহমেদ বলেন, ১৪ শতাংশের বেশি আর্দ্রতাসম্পন্ন ধান গ্রহণের সুযোগ নেই। কমিশনের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত