প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
স্থানীয় নির্বাচনেও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিএনপি অমান্য করলেই আজীবন বহিষ্কার
চেকপোস্ট নিউজ, ||
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতাদের কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আজীবন বহিষ্কারের মতো শাস্তিও দেওয়া হতে পারে।দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে বিএনপি। এবারও দলীয় প্রতীক থাকছে না। তবে মাঠপর্যায়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কেন্দ্র বা স্থানীয় সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে অনানুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়া হবে।দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাকে সমর্থন দেওয়া হবে, অন্য সব সম্ভাব্য প্রার্থীকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বা দলের সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বড় দলে মনোনয়নপ্রত্যাশী বেশি থাকাই স্বাভাবিক। তবে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দলের জন্য ত্যাগ, অবদান এবং স্থানীয় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই সমর্থন দেওয়া হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।দলীয় সূত্র বলছে, অতীতে প্রতীকবিহীন নির্বাচনে একই এলাকায় একাধিক বিএনপি নেতা প্রার্থী হওয়ায় ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়েছে। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের সতর্ক করা হচ্ছে।বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনেও ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। দল যাকে সমর্থন দেবে, সবাইকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দলের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন বিএনপি মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে চায়। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে তারা সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।সিটি করপোরেশনে কেন্দ্রীয় সমর্থনবিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে শুধু সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্রশাসকদের অনেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় একাধিক প্রার্থী আগ্রহী হতে পারেন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত