প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
নবীর স্ত্রী হয়েও কেন জাহান্নামে গেলেন ঈমানহীনতার ভয়াবহ শিক্ষা
চেকপোস্ট নিউজ, ||
আল্লাহর নবী হওয়া সত্ত্বেও নিজের স্ত্রীকে ঈমানের পথে আনতে পারেননি হজরত লুত (আ.)। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই ঘটনা মানবজাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে—আত্মীয়তা বা পারিবারিক সম্পর্ক নয়, বরং ঈমান ও আমলই পরকালের মুক্তির মূল ভিত্তি।হজরত লুত (আ.)-কে আল্লাহ তাআলা সাদুম ও আমুরা অঞ্চলের মানুষের কাছে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। সে সময় ওই এলাকার মানুষ শিরক, অশ্লীলতা, লুটতরাজ এবং সমকামিতাসহ নানা ধরনের পাপাচারে লিপ্ত ছিল। লুত (আ.) দীর্ঘদিন ধরে তাদের আল্লাহর পথে আহ্বান জানান এবং পাপ থেকে ফিরে আসার দাওয়াত দেন।কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। শুধু তাই নয়, তাঁর নিজের স্ত্রীও ঈমান গ্রহণ করেননি। বিভিন্ন তাফসিরের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি অবিশ্বাসীদের সহযোগিতা করতেন এবং লুত (আ.)-এর ঘরে আগত অতিথিদের খবর পাপাচারী লোকদের কাছে পৌঁছে দিতেন।আল্লাহর নির্দেশে এক সময় ফেরেশতারা মানব আকৃতিতে লুত (আ.)-এর কাছে আসেন। লুত (আ.)-এর স্ত্রী তাদের আগমনের সংবাদ সম্প্রদায়ের লোকদের জানিয়ে দেন। এরপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতারা লুত (আ.)-কে পরিবারসহ শহর ত্যাগের নির্দেশ দেন এবং জানিয়ে দেন যে তাঁর স্ত্রী ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।শেষ রাতে আল্লাহর ভয়াবহ আজাব নেমে আসে। সাদুম ও আমুরার জনপদ ধ্বংস হয়ে যায়। অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে লুত (আ.)-এর স্ত্রীও সেই শাস্তির অন্তর্ভুক্ত হন। ফলে নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুক্তি লাভ করতে পারেননি।পবিত্র কোরআনের সুরা তাহরিমের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নুহ (আ.)-এর স্ত্রী ও লুত (আ.)-এর স্ত্রীর উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, তারা দুইজন নেককার বান্দার অধীনে থেকেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। তাই তাদের স্বামীরা আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদের রক্ষা করতে পারেননি এবং তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করতে বলা হয়েছিল।ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বংশ, মর্যাদা কিংবা পারিবারিক পরিচয় নয়—আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতার একমাত্র মানদণ্ড হলো ঈমান, আনুগত্য ও সৎকর্ম। তাই প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত আমল ও বিশ্বাসই তার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত