প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
৯০ মিনিটেই ধরা পড়বে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, হাবিপ্রবির প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য
সারোয়ার আলম রিজন, , হাবিপ্রবি প্রতিনিধি:: ||
খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল হকের নেতৃত্বে উদ্ভাবিত হয়েছে Loop-Mediated Isothermal Amplification (LAMP) ভিত্তিক দ্রুত পরীক্ষাপদ্ধতি, যা মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যেই খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করতে সক্ষম।গবেষণায় প্রধান লক্ষ্য ছিল Bacillus cereus নামক বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা, যা ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ের নমুনার প্রায় ৮০ শতাংশে অন্তত একটি টক্সিন জিন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পশুখাদ্যে সর্বোচ্চ মাত্রার দূষণ শনাক্ত হয়েছে, পাশাপাশি দুধ ও ডিমেও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পাওয়া গেছে।গবেষকরা জানান, প্রচলিত PCR পদ্ধতিতে পরীক্ষার জন্য ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে এবং ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু নতুন LAMP প্রযুক্তি মাত্র ৯০ মিনিটে ফলাফল দিতে সক্ষম এবং প্রতি পরীক্ষার খরচ প্রায় ২.৫ মার্কিন ডলার। সাধারণ ওয়াটার বাথ বা হিটিং ব্লক ব্যবহার করেই এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়। সংবেদনশীলতার দিক থেকেও এটি অত্যন্ত কার্যকর, প্রায় ১০,০০০ গুণ বেশি সংবেদনশীল এবং ৯৬.১ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেছে।অধ্যাপক ড. আতিকুল হক বলেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সহজভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সাধারণত ৪০ মিনিটেই প্রাথমিক ফল পাওয়া যাবে এবং সর্বোচ্চ ৯০ মিনিটে নিশ্চিত ফল পাওয়া যায়। সীমিত সম্পদেও এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।গবেষণাটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নাল ফ্রন্টিয়ার্স ইন সেলুলার অ্যান্ড ইনফেকশন মাইক্রোবায়োলজি এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের গবেষণা বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি অর্জন করেছে।এই প্রযুক্তি সরকারি খাদ্য পরীক্ষাগার, ভেটেরিনারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দুধ ও পোল্ট্রি শিল্প এবং মোবাইল আউটব্রেক তদন্ত দলের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর হবে বলে গবেষকরা মনে করছেন।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে দেশব্যাপী বৃহৎ পর্যবেক্ষণ গবেষণা পরিচালনা, মাল্টিপ্লেক্স LAMP প্রযুক্তি উন্নয়ন, প্রজাতি-নির্দিষ্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা তৈরি এবং বহনযোগ্য ফিল্ড কিট উদ্ভাবন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সরাসরি দ্রুত পরীক্ষা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, সীমিত অর্থায়নের কারণে গবেষণাটি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও খাদ্যপণ্যে আরও বড় পরিসরে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত