প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
লাখাইয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে জনবল সংকট, স্থবির জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম
এম এ ওয়াহেদ,, লাখাই প্রতিনিধি:: ||
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি এবং কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে জন্মবিরতিকরণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে পরিবার পরিকল্পনা সেবার মান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র রায়।বর্তমানে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ছয়জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) কর্মরত রয়েছেন। তবে পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফপিএ) পদে ৩৪ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৭ জন। ফলে সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) পদে ছয়টির বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন, বাকি তিনটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল সংকটের পাশাপাশি জন্মবিরতিকরণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় উপকরণেরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। মাঝে মধ্যে বরাদ্দ এলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।একসময় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে পিপিভি (পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ার) কার্যক্রম চালু থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সেবা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি যেমন-আইইউডি, ইমপ্লান্ট এবং পুরুষদের ভ্যাসেকটমি (এনএসভি) কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল জনবলও লাখাই উপজেলায় নেই। ফলে এসব সেবা নিতে অনেককে হবিগঞ্জ মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় কিছু ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে কয়েকজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য ও মাঠপর্যায়ে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র রায় বলেন, জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে জন্মবিরতিকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পিপিভি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল জনবল না থাকায় অনেক সেবা হবিগঞ্জ মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে নিতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা ব্যক্তিগত ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ আমার জানা নেই। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক এ কে এম সেলিম ভূঁইয়ার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত