প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
নীলফামারীতে ভ্যাপসা গরমে ডায়রিয়া-নিউমোনিয়ার থাবা, হাসপাতালে রোগীর ঢল
শাহজাহান আলী মনন, , নীলফামারী প্রতিনিধি:: ||
নীলফামারীতে প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-সর্দি ও হিটস্ট্রোকের মতো রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে।রোববার (৭ জুন) দুপুর পর্যন্ত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে ১৬৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। অন্যদিকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২০৪ জন রোগী, যাদের বড় অংশ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত বেড বাড়ানো হলেও ডায়রিয়া রোগীদের জন্য শয্যা সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক রোগীকে করিডোর ও চলাচলের পথেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম, দূষিত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার কারণে এসব রোগের প্রকোপ বাড়ছে।সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা জানান, প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। অতিরিক্ত গরমে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও হিটস্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।অন্যদিকে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল বলেন, ভ্যাপসা গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বাড়ছে। তিনি শিশুদের রোদ এড়িয়ে চলা, বেশি পানি পান করা এবং বাইরের খাবার পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল্লাহেল মাফি জানান, ওষুধ সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সব রোগীকে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই ওষুধ সরবরাহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত