প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
ধর্ষণ মামলার এক মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি, হুমকিতে পরিবার
ছাইম খান,, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:: ||
গোপালগঞ্জে ১৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হলেও এক মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল অভিযুক্ত শাকিল খান (১৯)। উল্টো অভিযুক্ত শাকিলের পরিবার বিত্তবান ও এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিশু ও তার মায়ের। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানায় পরিবারটি। আর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা আর চোখে থাকার কথা ছিল সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সেই বয়সেই নির্মম পাশবিকতার শিকার হতে হয়েছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী শিশুটি। এ ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে তার লেখাপড়া। এক মাস আগে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন শিশুটির মা। তবে মামলার একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত শাকিল খান নামের ওই যুবকসদর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করেন হতদরিদ্র ভূমিহীন পরিবারটি। তাদের বড় সন্তান বাড়ির পাশের একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। শিশুটির মা বাবা দুজনই একটি ইটভাটায় দিনমজুর হিসাবে কাজ করেন।মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা মা বাড়ি না থাকায় গত ৪ মে দুপুরে অভিযুক্ত একই গ্রামের শাকিল খান (১৯) শিশুটিকে একা পেয়ে জোরপূর্বক টেনে হিচড়ে রাস্তার অপর পাশে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরে গত ৬ মে সদর থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শাকিলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।এ ঘটনার পর থেকেই মামলা তুলে নিতে পরিবারের ওপর হুমকিধমকি আসছে বলে অভিযোগ করেন ধর্ষণের শিকার শিশুটি। শিশুটি জানায়, তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুটি আক্ষেপ করে বলে, ‘আমি কি তার বিচার পাব না?’ এই ঘটনার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শিশুটি।মামলার বাদী শিশুটির মা বলেন, বিভিন্ন লোক দিয়ে আমাদেরকে ভয় ভীতি দেওয়া হচ্ছে। চরম আতঙ্কে দিন পার করছি। শাকিলের পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী ও তাদের অনেক টাকা পয়সা আছে। আমরা কি তাদের সাথে কোনভাবে মামলায় লড়তে পারব? বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে আমাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেকে বলছে তাদের অনেক টাকা আছে। তোমরা তাদের কিছুই করতে পারবে না। একমাস পার হয়ে গেলেও এখনো পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। আমি সরকারের কাছে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাতনির ওপর এই পাশবিক নির্যাতনকারীর বিচার চান ৮৫ বছর বয়সী শিশুটির দাদী।অভিযুক্ত শাকিলের বাবার কাছে তার ছেলে কোথায় জানতে চাইলে নাছির খান বলেন, এ ঘটনার পর থেকে শাকিল পলাতক রয়েছে। ঘটনার দিন আমার ছেলে ছাড়া বাড়িতে আমরা কেউ ছিলাম না। আমি লোকজনের কাছে ঘটনার কথা শুনেছি। যে ছেলের জন্য মান সম্মান থাকবে না তার পরিচয় দিতে চাই না। ওকে আমি ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করব। সে যদি দোষী হয়ে থাকে তাহলে আমিও তার শাস্তি চাই।শাকিলের খোঁজে তার বাড়িতে গেলে প্রথমে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর আসেন তার মা রাশিদা বেগম। কথা বলতে রাজি না হলেও ‘আমি কিছু জানি না। ঘটনার দিন আমি বাড়ি ছিলাম না, শহরে গিয়েছিলাম।’ বলে মাগরিবের নামাজ পড়ার কথা বলে চলে যান।অপরদিকে আসামি শাকিল খান পলাতক রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত