প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
নীলফামারীতে মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ
শাহজাহান আলী মনন,, নীলফামারী প্রতিনিধি:: ||
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ তার ছেলের শোবার ঘরের মেঝের নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। নিহত মারুফা বেগম (৬০) ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুনের পর থেকে মারুফা বেগমকে আর দেখা যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া জানান, ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। পরে বুধবার দুপুরে বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা আশপাশে অনুসন্ধান চালান।পরে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়ার ব্যবহৃত ঘরের মেঝের একটি অংশে অস্বাভাবিকতা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রাতের দিকে মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।পুলিশ জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগে তাকে হত্যা করে প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে ঘরের মেঝের নিচে চাপা দেওয়া হয়েছিল।মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী ও ছেলেকে থানায় নেওয়া হয়েছে।কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জুয়েল মিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে শক্ত সন্দেহ পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত