প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
কাজ শেষের আগেই তিস্তা ভাঙনে বিলীন প্রকল্পের অংশ
মোঃ মাজহারুল ইসলাম,, উলিপুর প্রতিনিধি:: ||
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় তিস্তার ভয়াল ভাঙন থেকে মানুষকে রক্ষায় নেওয়া প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ভাঙনরোধ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এর অন্তত একশ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে কালপানি বজরা ও পশ্চিম কালপানি বজরা গ্রামের হাজারো পরিবার নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো কাজ শুরু না করা, নিম্নমানের তদারকি এবং সাব-ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নিজেদের দায় অস্বীকার করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী সাব-ঠিকাদারদের কারণে জটিলতার কথা বলছে।পাউবো সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় থেতরাই ও বজরা ইউনিয়নে তিস্তার বাঁ তীর রক্ষায় এই প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে তিন কিলোমিটার এলাকায় ১৩টি প্যাকেজে ২০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে আড়াই কিলোমিটার এলাকায় ছয়টি প্যাকেজে আরও ১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।প্রকল্প অনুযায়ী নদীতীরে জিওব্যাগ ডাম্পিং, স্লোপ কাটিং, টপ ও গাইডওয়াল নির্মাণের কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ানোর পরও তিনটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যেই প্রকল্পের একটি অংশ নদীতে ধসে পড়ে। বর্তমানে কাজের নতুন মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।গত ১৮ মে সরেজমিনে কালপানি বজরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের অন্তত একশ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নিচের অংশের গাইডওয়াল নির্মাণ এখনও শুরু হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন বলেন, শেষ বয়সে নদীভাঙনের ভয়ে ঘুমাতে পারি না। এই ঘরটাও বুঝি নদীতে চলে যাবে। মাজেদা বেওয়া বলেন, বাঁধ দেখে বাড়ি সরাইনি। এখন কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. এনামুল হক অভিযোগ করেন, দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দেননি।পাউবোর কার্যসহকারী মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, সাব-ঠিকাদার সময়মতো কাজ শুরু না করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাইট ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান পলাশও কাজ বিলম্বের কারণে ঝুঁকি বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন।তবে সাব-ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা মো. শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, তিনি সাইটের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন।
এ বিষয়ে সাব-ডিভিশনাল প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের জানান, ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বিল দেওয়া হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত