প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
কিশোর গ্যাং, সমাজের জন্য ভয়ংকর ব্যাধি
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল:: ||
কিশোর গ্যাং বর্তমানে দেশের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় উদ্বেগের নাম হয়ে উঠেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন, কিশোর গ্যাং এখন সমাজের জন্য একটি “ব্যাধি” হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মাদক সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পারিবারিক অবহেলা, সামাজিক অস্থিরতা, নেতিবাচক বন্ধুসঙ্গ, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সহিংস গণমাধ্যম কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে বাবা-মায়ের পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় অনেক শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ফলে তারা স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, সমাজে মাদকের সহজলভ্যতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দুর্বল সামাজিক নিয়ন্ত্রণ কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে উৎসাহিত করছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব গ্যাং ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, মারামারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।বন্ধুবান্ধবের নেতিবাচক প্রভাবও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কৈশোর বয়সে বন্ধুরা একজন কিশোরের চিন্তা ও আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভুল বন্ধুসঙ্গের কারণে অনেক কিশোর ধূমপান, মাদকাসক্তি কিংবা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ও অনলাইন কনটেন্টে সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করাও কিশোরদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির একটি কারণ। বর্তমান প্রজন্ম উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত পরিচিত হলেও এর সঠিক ব্যবহার শিখতে পারছে না। ফলে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির অপব্যবহার সমাজে কুপ্রভাব ফেলছে।অপরাধবিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে কিশোর গ্যাং নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে তারা বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
কিশোর গ্যাং দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি আরও বড় হুমকিতে পরিণত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত