প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
দাঁতের চিকিৎসায় ভয়াবহ অব্যবস্থা খুলনায় কথিত ডেন্টিস্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মোঃ রবিউল হোসেন খান,, খুলনা প্রতিনিধি:: ||
খুলনা নগরীতে কথিত ও অযোগ্য দন্ত চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন। অপচিকিৎসার শিকার হয়ে ভোগান্তি বাড়ছে রোগীদের, এমন অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে।নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সোহাগ (৪৬) পেশায় ইজিবাইক চালক। গত ২৩ এপ্রিল তিনি দাঁতের যন্ত্রনায় কাতর হয়ে ফুলবাড়িগেট দারোগার বাজার এলাকার এস এস সেন্টাল কেয়ার নামের একটি বেসরকারি দন্ত চিকিৎসালয়ে যান। শেখ সুলতান মাহমুদ গালিব নামে একজন ডেন্টাল টেকনিশিয়ান তার চিকিৎসা শুরু করেন। তিনি একটি ব্যবস্থাপত্র দেন। ২মে সন্ধ্যায় রোগী ওই ক্লিনিকে গেলে তার দাঁতে পুটিং করা হয়। দুইদিন পর ঔই দাঁতে তীব্র যন্ত্রনার প্রেক্ষাপটে ৪মে সন্ধ্যায় রোগী আবার সেখানে যান। তখন কথিত ঔই ডাক্তার তার পুটিং তুলে ফেলেন এবং দাঁত উঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেন। কয়েক দফায় অবস করার ইনজেকশন দেবার পর তিনি দাঁত তোলার কাজ শুরু করেন। রোগী তখন ব্যাথায় কাতরাচ্ছেন, ছট-ফট করছেন। এভাবে কেটেযায় অন্তত তিন ঘন্টা। এক পর্যায়ে টেকনিশিয়ান গালিব ব্যর্থ হয়ে তাকে একই এলাকার শেখ সুপার মার্কেট সংলগ্ন ছোবহান ডেন্টাল কেয়ার নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসা দিচ্ছেন মোঃ শাহ জামাল নামে আরেকজন দন্ত টেকনিশিয়ান। তিনি রোগীর দাঁতের অধ্যাংশ তুলে ফেলেন। প্রেসক্রিপশনে কিছু ঔষুধ লিখে দেন। পরবর্তীতে তার দাঁতের ব্যথা এবং ফোলা আরোও বেড়ে যায়। ভুক্তভোগী সোহাগ জানান, পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে তিনি খুলনা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে একটি এক্সরে রিপোর্ট করতে দেন। যা দেখে তিনি বলেন দাঁতটির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেটি তোলা যাবে না। তিনি একটি ব্যবস্থাপত্র দেন। প্রেসক্রিপশনে ওষুধ সেবন করে রোগী কিছুটা সুস্থতা অনুভব করছেন। সোহাগের মতো আরো অনেকে কথিত অথবা ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের কবলে পড়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন, খেশারত দিচ্ছেন আর জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জন ডিগ্রি অর্জনের পর( বিএমডিসি) কতৃপক্ষের রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারগনই শুধুমাত্র দাঁতের চিকিৎসা করতে পারবেন। দন্ত চিকিৎসা দেবার অনুমতি নেই টেকনিশিয়ান, ডাক্তারের সহযোগীদের। এক্ষেত্রে কেউ জড়িত থাকলে শাস্তির আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সুত্রমতে, নগরীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল খুলনা ( ডেন্টাল ক্লিনিক) এবং সোনাডাঙ্গা এলাকার আলী হোসেন সড়ক সংলগ্ন পালপ ডেন্টাল হাসপাতাল নামে শুধুমাত্র দুটি বেসরকারি ডেন্টাল ক্লিনিকের লাইসেন্স আছে। এছাড়া সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও আদদ্ধীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রয়েছে ডেন্টাল ইউনিট। তবে বিভিন্ন স্থানে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকগন চেম্বার পরিচালনা করছেন। তাদের লাইসেন্স গ্রহনের প্রয়োজন নেই, তারা সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসা কাজ চালাতে পারবেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নগরীর সাতরাস্তা মোড়, সিমেট্রি রোড, ফুলবাড়িগেট, দৌলতপুর, খালিশপুর নিউজপ্রিন্টগেট , মেগার মোড় রায়হান ডেন্টাল, গল্লামারীসহ বিভিন্ন স্থানে চক- চকে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দন্ত টেকনিশিয়ান অথবা চিকিৎসকদের সহকারীরা দাঁতের চিকিৎসালয় খুলে ব্যবসা করছেন। তাদের কাছে যাওয়া অনেক রোগী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঔইসব চিকিৎসকদের সহকারী অনেকেরই প্যাডে দন্ত অথবা ডেন্টাল টেকনিশিয়ান উল্লেখ আছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে সিভিল সার্জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ঔইসব কথিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত