প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
সৈয়দপুরে দেহ ব্যবসার অভিযোগে জনতার হাতে ২ নারীসহ ৩ জন আটক
শাহজাহান আলী মনন,, নীলফামারী প্রতিনিধি:: ||
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বিমানবন্দর সড়কে রেলওয়ে নিচু কলোনী এলাকা থেকে ২ নারীসহ ১ পুরুষ কে আটক করা হয়েছে। বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগে এলাকাবাসী তাদের হাতে নাতে আটক করে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাতে মৃত নবাব আলীর ছেলে হযরত আলীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। এসময় অজ্ঞাত এক পুরুষ পালিয়ে গেছে। জনতার হাতে আটকরা হলেন, ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. আবু সাঈদ (৫০)। যার বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বাঁশহাটি এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল আজিজ। তার সহযোগী সৈয়দপুর শহরের চাঁদনগর এলাকার পল্লী চিকিৎসক খোকনের স্ত্রী মোছা. মাজেদা বেগম শেলী (৪৫)। অপরজন হলেন, দেহ পসারিণী মোছা. মনি আক্তার (২১)। তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার কাশিপুর এলাকার মো. মোকসেদ মোল্লার মেয়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ আবু সাইদ স্থানীয় হযরত আলীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের এনে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেলি নামের মহিলা অল্পবয়সী মেয়ে ও খদ্দের নিয়ে আসে। বিষয়টা আঁচ করতে পেরে ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিককে একাধিক বার নিষেধ করলেও তারা শোনেনি। এমতাবস্থায় লোকজন তাদের হাতে নাতে আটক করার জন্য ওতপেতে থাকে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মনি আক্তার নামের ওই মেয়েটি ও অজ্ঞাত কয়েকজন পুরুষকে নিয়ে সেলি আসে আবু সাইদের বাসায়। কিছুক্ষণ পর এলাকার লোকজন সেই বাসায় ঢুকলে তাদের অসামাজিক কাজ করা অবস্থায় হাতে নাতে ধরে ফেলে। কিন্তু অজ্ঞাত পুরুষগুলো কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আটক মনি আক্তার সবার উপস্থিতিতে আবু সাইদ ও সেলির মাধ্যমে দেহ ব্যবসার কথা স্বীকার করে।ইতোমধ্যে যার লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে বিমানবন্দর সড়কে পুরাতন সোনালী ব্যাংকের সামনে অবস্থান করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে আটক ৩ জনকে থানায় নিয়ে যায়। লোকজনের অভিযোগ, সেলি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি তার বাবার নাম বলেছেন মৃত সোহরাব এবং ঠিকানা নয়াটোলা দিয়েছেন। আসলে তার বাবা বেঁচে আছেন এবং নাম শফি। আর বাসা চাঁদনগর এলাকা। নিজের বাড়িতেও একইভাবে দেহ ব্যবসা চালাতো সেলি। কিন্তু প্রায় ৬ মাস আগে তার বাসা থেকে খদ্দেরসহ দেহ পসারিণী আটক হয়েছিল এবং তিনি পালিয়ে রক্ষা পেয়েছিলেন। সেই ঘটনার মামলা এখনো চলমান। তখন থেকে নিচু কলোনীতে এসে আবু সাইদের বাসায় এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন সেলি। এব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জনতার হাতে আটক ২ নারীসহ ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত