প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
গঙ্গাধর নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হারাচ্ছে চৌদ্দঘুড়ি-বালারহাট
ফিরোজ কবির,, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:: ||
কুড়িগ্রামের গঙ্গাধর নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে নারায়নপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ি ও বালারহাট এলাকা। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এক সপ্তাহেই অন্তত ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।স্থানীয়রা বলছেন, বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও চর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশের দরিদ্রতম জেলা কুড়িগ্রামে দারিদ্র্যের হার ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অতিদরিদ্রের হার ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙনই এ অঞ্চলের দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ। ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, ফুলকুমার, গঙ্গাধর ও তিস্তা নদীসহ বিভিন্ন নদীর ভাঙনে প্রতিবছর হাজারো পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।বর্তমানে গঙ্গাধর নদীর ভাঙনে চরম হুমকিতে রয়েছে চৌদ্দঘুড়ি বিজিবি ফাঁড়ি, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, স্থানীয় বাজার, কৃষিজমি ও অসংখ্য বসতভিটা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।চৌদ্দঘুড়ি এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলী ও রাসেল মিয়া বলেন, গঙ্গাধর নদী আমাদের গ্রাস করছে। ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে পরিবার নিয়ে দিন কাটছে। প্রতিবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কাজ হয় না।স্থানীয় কৃষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, চাষের জমি নদীতে চলে গেছে। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন স্থায়ী সমাধান ছাড়া উপায় নেই।বালারহাট গ্রামের আজিজুর রহমান ও আজিবুর রহমান বলেন, ভিটেমাটি হারিয়ে কোথায় যাব জানি না। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ দরকার।নারায়নপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমান জানান, প্রতি বছর একইভাবে মানুষ নদীভাঙনের শিকার হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি।
এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, গঙ্গাধর নদীর ভাঙন রোধে বরাদ্দ চেয়ে পানি ভবনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত