প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
টুঙ্গিপাড়ার মুজাহিদে আযম আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) এর জীবনি
ছাইম খান,, টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ:: ||
বাংলাদেশের ইসলামি চিন্তা, শিক্ষা ও সমাজসংস্কারের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম । মুজাহিদে আযম, সদর সাহেব হুজুর, শাইখুল হাদিস—বিভিন্ন সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত এই মহান আলেম তাঁর জ্ঞান, ত্যাগ ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন।১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গওহরডাঙ্গা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুন্সি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং মাতা আমেনা খাতুন। পারিবারিকভাবেই তিনি ছিলেন সংগ্রামী চেতনার ধারক—তার পিতা ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে এবং দাদা শিখ-ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।শিক্ষাজীবনে তিনি প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। তবে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাবে তিনি প্রথাগত শিক্ষা ত্যাগ করে ইসলামী শিক্ষার দিকে মনোনিবেশ করেন। পরে ভারতের বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাদিস ও ইসলামি জ্ঞান অর্জন করেন।কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সমাজসংস্কারক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা থেকে শুরু করে ঢাকার বড় কাটারা ও লালবাগ মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন হাদিসের দরস প্রদান করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে লালবাগ জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া, গওহরডাঙ্গা কওমি মাদ্রাসা, বড় কাটারা মাদ্রাসা এবং ফরিদাবাদ মাদ্রাসা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।তিনি শুধু শিক্ষা বিস্তারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং সমাজ সংস্কার, ইসলামী গবেষণা এবং ধর্মীয় জাগরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলা ভাষায় তাফসীর রচনার পথিকৃৎ হিসেবেও তিনি স্মরণীয়।১৯৬৯ সালের ২১ জানুয়ারি এই মহান আলেম ইন্তেকাল করেন। তাঁকে গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।মুজাহিদে আযম আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) আজও বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের এক অনুপ্রেরণার নাম—যার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত