প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
টিকা সংকটের তথ্য দিলেই শাস্তি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক
চেকপোস্ট নিউজ, ||
দেশে হাম-এর উচ্চ সংক্রমণের মধ্যেই দেখা দিয়েছে জলাতঙ্কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টিকার সংকট। একই সঙ্গে শিশুদের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ও ধনুষ্টংকার প্রতিরোধী টিকারও স্বল্পতা দেখা গেছে। এই বাস্তব চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরায় শাস্তির মুখে পড়ছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।সর্বশেষ মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীরকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। জলাতঙ্কের টিকা নিয়ে ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে তাকে এ শাস্তি দেওয়া হয়।এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রতিদিন ২০-৩০ জন কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তি টিকা নিতে এলেও সরবরাহের অভাবে অনেককে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। সীমিত ভ্যাকসিন দিয়ে জরুরি রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।একই ধরনের ঘটনায় সম্প্রতি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর উপ-পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে শাস্তির মুখে পড়া কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে অনাগ্রহী। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মাঠ পর্যায়ের বাস্তব তথ্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি হলে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই প্রকৃত পরিস্থিতি জানেন। তাদের মুখ বন্ধ করে দিলে কোথায় টিকার ঘাটতি, কোথায় জনবল সংকট এসব সামনে আসবে না। ফলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একাধিকবার দাবি করেছেন, হাম, রুবেলা ও জলাতঙ্কসহ কোনো টিকার সংকট নেই। তবে মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৩৫ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তব তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত