প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
রেকর্ড উৎপাদনে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল, কৃষকদের মুখে হাসি
চেকপোস্ট নিউজ:: ||
বাম্পার ফলনের কারণে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বাজারে বর্তমানে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দামও রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে।কৃষক ও কৃষিবিদরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই কম থাকা এবং সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর ফলে এবার পেঁয়াজ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমেছে।কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা জানান, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দামও স্থিতিশীল রয়েছে।তিনি বলেন, সরকারি দুটি প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৯০০টির বেশি পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ কৃষকদের আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবার এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮৬ হাজার ৩৯৮ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরে আমদানি ছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮১১ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন। দেশের বার্ষিক চাহিদা সাধারণত ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন।ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক পার্থ কুমার মণ্ডল জানান, এবার পেঁয়াজের ফলন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করায় তিনি বেশি লাভের আশায় রয়েছেন।একই এলাকার আরেক কৃষক সাধন হীরা বলেন, শতাংশপ্রতি উৎপাদন বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন মণ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।কৃষকদের মতে, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রায় ১ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম থাকায় তারা এবার ভালো লাভের আশা করছেন।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ আমদানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে আমদানি ছিল ১০ লাখ ৯১ হাজার টন, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮৬ হাজার টনের কিছু বেশি।কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, বাম্পার ফলনের কারণে এ বছর আমদানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি মডেল ঘরে প্রায় ৩০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা কৃষকদের জন্য বড় সহায়তা।কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘বায়ু প্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সঠিক সংরক্ষণ না থাকায় আগে ২৫-৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হতো। এখন আধুনিক এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৮-৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দেশ পুরোপুরি পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত