প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
কুড়িগ্রামে প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারল না শিক্ষার্থী
||
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ও প্রশাসনিক ভুলের কারণে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এক শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
ভুক্তভোগী জান্নাতি খাতুন উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের জমিদারপাড়া গ্রামের জাহেদুল ইসলামের মেয়ে। জানা গেছে, অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করে সে। সারা বছর মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেয়।
কিন্তু গত সোমবার বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র নিতে গেলে জানা যায়, অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র এলেও জান্নাতিরটি আসেনি। বিষয়টি জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। একটি বছর হারানোর শঙ্কা ও দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় তার পরিবারও চরম হতাশায় রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হলেও জান্নাতি অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করছিল। তার লক্ষ্য ছিল বড় ভাইয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। কিন্তু হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল সালামের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর অপশনাল বিষয়ে ভুল সংশোধনের জন্য বোর্ডে যেতে হয়েছিল। জান্নাতির ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে স্বীকার করে তিনি তার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, নীতিমালা অনুযায়ী আংশিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে পরবর্তীতে মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ থাকে না।
এদিকে শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শুধু একটি পরীক্ষার সুযোগ হারানো নয়, এটি একটি পুরো শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার সমান।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এমন একটি ঘটনার দায় কে নেবে? শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা কি যথেষ্ট, নাকি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরৈয্য প্রয়োজন রয়েছে?
ঘটনাটি আবারও শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত