প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
২৩ দিনে ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
||
গত ১০ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষার্থীর ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন আত্মহত্যা করেছেন, নয়জন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাকি চারজন অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং অন্যরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) একদিনেই। এছাড়া পদ্মায় বাসডুবির ঘটনা একই দিন মারা যান চার শিক্ষার্থী।
গত মাসের ১০ তারিখ (মঙ্গলবার) সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজশাহীর বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আনিসা শারমিলা নাফিসা। গত ৩ মার্চ মেডিকেল কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে নগরীর লিলি হল সংলগ্ন এলাকায় মিনি ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ও পরে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাফিসা।
শুক্রবার শিক্ষকের রোষানলে পড়ে এক বিষয়ে পাঁচ বার ফেল করে অভিমানে ১০৯ টি ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন।
বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ২১তম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ আসমাত নিবিড় মারা যান গত মাসের ১৩ তারিখ (শুক্রবার)। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। আসিফ আসমাত নিবিড়ের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। তিনি চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে অধ্যয়নের পর প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। করতেন অনুবাদও।
গত ১৬ মার্চ (সোমবার) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালি এলাকায় বাসার ছাদ থেকে পড়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা রিজু মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার একটি ছেলে ও মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন।
একই দিন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী দীপা দাস দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেন। জানা গেছে, আগেরদিন বিকেলে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় দীপার। পরে তিনি তার স্বামীকে একটি ঘরে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন।
সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার কর্মকারপাড়ায় গত ১৮ মার্চ সজীব দত্ত (২৭) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। সদর থানার এসআই মহাসিন আলীর ভাষ্য, সজীব শৈশব থেকেই নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। সকালে ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।
পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় একই দিন চার শিক্ষার্থী প্রাণ হারান। এর মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জোহরা অন্তি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থী সাইফ আহমেদ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান ইমন গত ২২ মার্চ (রবিবার) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যান। সেদিন সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২৩২ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গত ২৫ মার্চ পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় একই দিন চার শিক্ষার্থী প্রাণ হারান। এর মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জোহরা অন্তি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থী সাইফ আহমেদ ও সিআরপির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএইচপিআইয়ের ফিজিওথেরাপি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সোমা (অকুপেশনাল থেরাপি, ১৭তম ব্যাচ)।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ডুবির এ ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) তড়িৎ ও প্রকৌশল বিভাগের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম খায়রুল গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। আবদুর রহিম খাইরুলের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চায়না বাজার এলাকায়। তিনি রংপুরের কাউনিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে হাবিপ্রবির তড়িৎ ও প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঘড়িয়ালডাংগা ইউনিয়ন সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত