প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
দুর্ঘটনার কারন অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
||
খুলনা- মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাটের রামপালে দুর্ঘটনার কারন অনুন্ধানে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিনকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়।
কমিটির আরো দুই সদস্য হলেন, বিআরটিএ বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক লায়লাতুল মাওয়া, জেলা পুলিশের নবম গ্রেডের সমমর্যদার একজন কর্মকর্তা। তিন সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার কারন অনুসন্ধান ও দায়ি ব্যাক্তিদের চিহ্নিত করবে। সেই সাথে দুর্ঘটনারোধে করনীয় বিষয়ে প্রযোজনীয় সুপারিশ করবে। যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো: বাতেন বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দুর্ঘটনার কারন অনুসন্ধানে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিবে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, নিহতদের প্রতি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা সহযোগীতা করা হবে। বর ও কনের দাফনের জন্য ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
এছাড়া বিআরটিএ দুর্ঘটনা ক্ষতিপুরন সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা তহবিলসহ অন্যান্য সহযোগীতা নিয়ম অনুযায়ী পাবেন দুর্ঘনায় নিহত ও আহত পরিবার। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা- মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়।
বর- কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতরা হলেন বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশি, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা, ইরাম।
কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগমও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম। মাইক্রোবাস চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংহের বুনিয়া গ্রামে। গতকাল শুক্রবার জুম্মায় গ্রামের বাড়িতে তাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুম্মাবাদ মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়।
কনে মিতু সহ তার পরিবারের চারজনের দাফন কয়রা ও চালনা এলাকায় সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া গাড়ি চালক নাঈমের জানাজা হয়েছে রামপালে। বর ছাব্বিরের মোংলা শহরে মোবাইলের দোকান ছিল। কনে মিতু কয়রার নকশা আলিম মাদ্রাসার আমিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত