প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬
লন্ডন ষড়যন্ত্রের হোতা খলিলুর, রিজওয়ানা ভোট কারচুপির ‘রাজসাক্ষী’: জামায়াত
||
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও নির্বাচন “ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর মাধ্যমে জামায়াতকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ অন্যান্য নেতারা।
ডা. আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, অন্তত ৫৩টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ নিয়ে তাদের দলের অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানার একটি বক্তব্যে পূর্ববর্তী সরকারের নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগে সাবেক দুই উপদেষ্টাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা বলেন, সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপিকা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তারা গুরুত্বপূর্ণ ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে দেখছেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে মূলধারার রাজনীতিতে উঠে আসতে দেওয়া হয়নি। এ থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. তাহের অভিযোগ করেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ‘লন্ডন ষড়যন্ত্র’-এর অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই তিনি সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করেছেন।
জামায়াত নেতা বলেন, ওই সময়ের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করান, যা তার আগের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
তার মতে, এসব কার্যক্রমের পুরস্কার হিসেবেই খলিলুর রহমান পরবর্তীতে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ প্রকাশ্যে খলিলুর রহমানের সমালোচনা করেছিলেন এবং তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন।
কিন্তু পরে একই ব্যক্তি কীভাবে বিএনপির আস্থাভাজন হয়ে মন্ত্রী হলেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার ধারণা, পরবর্তীতে খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের সমঝোতা হয়ে থাকতে পারে।
ডা. তাহের বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসছে বলে তাদের অভিযোগ। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথাও তুলে ধরেন তিনি এবং এটিকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, সংবিধান অনুযায়ী লিখিত প্রস্তাব পেলে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে জামায়াত বিবেচনা করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত