প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা প্রথম অগ্রাধিকার : নজরুল মঞ্জু
||
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, মানুষের স্বাস্থ্য সেবা আমাদের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য এই ধরনের স্বাস্থ্য সেবা দরকার। নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রথম অগ্রাধিকার। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং এই ধরনের হাসপাতাল গুলোকে আমরা নতুনভাবে আরো বেশি সার্পোট দিয়ে আরো কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে সেই ব্যবস্থা করব। আজ সকালে নগরীর খালিশপুর " লাল হাসপাতাল " পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব আরিফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান সহ কেসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যতম স্বাস্থ্য কেন্দ্র " লাল হাসপাতাল "। এটি ঐতিহ্যবাহী এবং অনেক পুরাতন। শিল্পাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। সীমিত সম্পদ ও লোকবলের মাধ্যমে তারা প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষের সেবা দিয়ে থাকে। রোগী, স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি শিল্পাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য এবং নারী শিশু সংরক্ষণ সেবার জন্য আরো কি কি সাপোর্ট দরকার। তাদের চাহিদাপত্র অনুযায়ী আমরা তাদের সাপোর্ট দেব। এটি আরো সম্প্রসারণ করার ইচ্ছে আমাদের আছে। প্রতি নিয়ত মানুষ বাড়ছে এবং শিল্প শ্রমিক অঞ্চলের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। বিনা পয়সায় মানুষের চিকিৎসা এবং বিনা পয়সায় ওষুধ দেওয়া এটি একটি ভিন্ন ধর্মী প্রতিষ্ঠান। এটি যেন আরো বেশি করে পায় আমরা সেই চেষ্টা করব বলে তাদেরকে আশ্বস্থ করেছি।
কেসিসির প্রশাসক বলেন, এই হাসপাতালে এসে চিকিৎসক পাইনি, উনি নেই অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। বিকল্প একজনকে দেওয়ার জন্য আমরা সিভিল সার্জনকে বলব। জরুরিভাবে আরেকজন ডাক্তারকে নিয়োগ করবেন। অবশ্য স্থায়ীভাবে ডাক্তার নিয়োগ করতে হবে। এই ব্যবস্থার মধ্যে সংকট আছে। আমরা সরকারের কাছে লিখব জনবল দিয়ে আরো কার্যকর করার। তিনি বলেন, মশক নিধনের ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। মশক নিধনের ওষুধ যেন কার্যকর হয়। এটি যেন পরিক্ষা করেই নিতে পারি। এই ক্ষেত্রে যেন দুর্নীতি না হয় এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। এই খাতে যে ধরনের দুর্নীতি অভিযোগ আসছে, আমরা তদন্ত করে দেখবো। যাতে সঠিক জিনিস ক্রয় করতে পারে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়। কর্মিরা যাতে সব সাপোর্ট পায় এবং যাতে কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে পারে ঘুরে আমরা সব দেখছি।
কেসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের মুল লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মানুষের কল্যানে কাজ করা, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শহরকে পরিচ্ছন্ন করা, একটি সবুজ নগরী গড়ে তোলা, সেটা প্রধানমন্ত্রী চায়। এই শহরের মানুষের কাছে তিনটি জিনিস সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, রাস্তাঘাট পরিস্কার ধুলা মুক্ত শহর, ক্লিন সিটি এবং মানুষ আরেকটি কাজ মশক নিধন চায়। আমরা সেই প্রগ্রামে হাত দিতে পেরেছি। আমরা খুব তাড়াতাড়ি ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে উন্নত এবং মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করব।
তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ৬ প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে করেছি। তিনি যে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা বলেছেন, তার মধ্যে একটি মশক। সামনে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার সিজন আসছে। তার আগেই আমাদের সকল ড্রেন পরিস্কার করতে হবে। জলাবদ্ধতা যে সব জায়গায় এডিস মশা ডিম পাড়ে সেসব জায়গা গুলো খুঁজে বের করে আমরা পরিস্কার করব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধোয়া দিয়ে মশক নিধন এটা খুব বেশি কার্যকর না। কার্যকর হচ্ছে উৎপাদন কেন্দ্র গুলোতে লক্ষ্য করা এবং সেগুলো পরিস্কার করা।
তিনি আরো বলেন, আমরা একটি কাজ করতে চায় যাতে মশকটা নির্মুল করা যায়। আমরা সেই প্রগ্রামটা হাতে নিয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা সেই প্রগ্রামে নামবো। প্রতিটা ড্রেন আমরা পরিস্কার করবো। একই সঙ্গে ডোবা, নালা, ঝোপঝাড় শুধু পরিস্কার করবো না আমরা জনগণের সাপোর্ট চাই। জনগনকে বলবো আমাদের সাথে কাজ করার জন্য। প্রত্যকটা মানুষের বাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার করতে হবে।
সিটি করপোরেশনের সব জায়গায় পৌছাতে আমরা পারবো না। ১০ লাখ মানুষের বসতি এই শহরে। সেই শহরে নিন্ম আয়ের মানুষ আছে, নিন্মাঞ্চল আছে, বস্তি আছে। আমরা স্বাস্থ্যসেবার জন্য যে প্রগ্রাম হাতে নিবো তার জন্য তারাও এগিয়ে আসে, সেই সহযোগিতা চায়। তাহলে আমরা মশক নিধন করতে পারবো।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত