প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুলনায় একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
||
বাঙালির আত্মগৌরবের স্মারক অমর একুশের প্রথম প্রহরে খুলনায় বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে মহান ভাষা শহিদদের। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২ টা ১ মিনিটে পর শুরু হয় মহানগরীর শহিদ হাদিস পার্কের শহিদ মিনারের শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এরপর বিভাগীয় কমিশনার ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, খুলনা জেল সুপার, খুলনা উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সুন্দরবন রেজিমেন্ট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রেসক্লাব, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জেলার সব সরকারি দপ্তর, মহানগর ও জেলা বিএনপি, খালিশপুর থানা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল সহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন,জাসদ, সিপিবি, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এছাড়া সকালেও বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল কলেজ সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভাতফেরি বের করে শহিদ হাদিস পার্ক, খালিশপুর নিউজপ্রিন্ট গেট শহিদ মিনার, হাজী মহসীন কলেজ শহিদ মিনার, সরকারি বিএল কলেজ শহিদ মিনার ও শিরোমনি এসে শহিদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পন করে। প্রসঙ্গত, আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি।
রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ইতিহাসের পাতায় রক্ত পলাশ হয়ে ফোটা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার,সফিউরের রক্তে রাঙানো এ দিনটি। মাতৃভাষা আন্দোলনে ৭৪ বছর পুর্ন হলো আজ। বাঙালি জাতির মায়ের ভাষা বাংলাকে রাস্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের এদিনটি পালনে ইতিমধ্যে রাস্ট্রিয়ভাবে নেওয়া হয়েছে নানা কমসুচি। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বানী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাস্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে রাজপথে নামা ছাত্র - যুবক তরুনদের বুকের তাজা রক্তে লাল হয় ঢাকার রাজপথ। রক্তস্নাত সেই দিনটি মহান শহিদ দিবস ও বিশ্ব অঙ্গনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২ টা ১ মিনিটে জাতীয় শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসুচি শুরু হয়। একুশের প্রথম প্রহরে কালো ব্যাজ ধারন করে প্রভাত ফেরী সহকারে শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন জানায় সর্বস্তরের ছাত্র, শ্রমিক, জনতা ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। দিবসটি উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা সহ নানা কর্মসুচি গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতি সংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ( ইউনেস্কো) কতৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বের ১৮৮ টি দেশে এ দিবসটি অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে। বাঙালি জাতির কাছে এটা একদিকে যেমন গভীর শোক ও বেদনার, অন্যদিকে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এক ঐতিহাসিক দিন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন সহ সব স্যাটালাইট চ্যানেল ও গণমাধ্যমে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রকাশিত হবে।
পত্রিকা সমুহ নিয়মিত প্রকাশনার পাশাপাশি একুশের বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই সাজতে শুরু করেছে খুলনার শহিদ হাদিস পার্কে নির্মিত নগরীর শহিদ মিনার। সেখানে একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২ টা ১ মিনিটে কালো ব্যাজ ধারন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নগরীর সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত