প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওদের ভয়–বাণিজ্যই ভোট বাড়িয়েছে তাহেরীর
||
হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় ভয়, মামলা ও চাঁদাবাজির রাজনীতিতে অতিষ্ঠ জনসাধারণ এখন আশ্রয় খুঁজছে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর কাছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘুদের ভীতি প্রদর্শন এবং চা–শ্রমিকদের অবজ্ঞার মতো ঘটনাগুলোই উল্টোভাবে তাহেরীর প্রতি জনসমর্থন বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
৫ আগস্টের পর থেকে মাধবপুর ও চুনারুঘাট এলাকায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি রাজনৈতিক চক্র পরিকল্পিতভাবে মামলা, ট্যাগিং ও মব সৃষ্টি করে শুধু আওয়ামী লীগ সমর্থক নয়, সমাজের শিক্ষিত, গুণী ও সুশীল মানুষদেরও আতঙ্কিত করে তুলছে। দেবপুর ইউনিয়নের আমিনুর ওরফে আমিরুল ইসলাম আমিন নামের একজনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে বহু নিরীহ মানুষকে বাড়িছাড়া করা হয়েছে। এমনকি মামলার তালিকায় বিএনপির লোকজনও রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। মাধবপুর বাজারে হিন্দু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের ট্যাগ’ দিয়ে মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আরেকটি চক্র সালিশের নামে কাছে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দিলে ‘বাঁচানোর’ প্রস্তাব দিত বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই দুষ্টচক্র সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছিল।
শুধু ব্যবসায়ী নয়, চা বাগানের শ্রমিকদেরও ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের মতে, টাকা ছড়িয়ে দেওয়া, ভয় দেখানো কিংবা বিভাজনের রাজনীতি আর কাজ করছে না। আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোট, সংখ্যালঘুদের ভোট, নারী ভোট এবং ইসলামপন্থী ভোট, সব মিলিয়েই মানুষ এখন শান্তি, নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর দিকে ঝুঁকছে।
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এলাকাজুড়ে এক ধরনের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক আকর্ষণ তৈরি হয়েছে তাহেরীকে ঘিরে। ভয়–বাণিজ্যের রাজনীতির বিপরীতে শান্তি ও মানবিকতার বার্তাই যে এই নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে, সেটিই এখন স্পষ্ট।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত