প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
সংসদ নির্বাচনে পোষ্টার নিষেধাজ্ঞায় প্রেস মালিক-কর্মচারীদের মাথায় হাত
||
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন ( ইসি)। তফশিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণ বিধি পালনে জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এরফলে প্রেস মালিক ও কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডাক্তার জিকরুল হক সড়কের একতা প্রেসের মালিক দুখু বলেন, ছোট বাচ্চারা যেমন অপেক্ষা করে ঈদ কবে আসবে। ঠিক তেমনি আমরা সৈয়দপুরের প্রেসের মালিকরা অপেক্ষা করি জাতীয় নির্বাচন কবে আসবে। কারন জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা কর্মচারী, কারেন্ট বিল ও দোকান ভাড়া দিয়ে কোন রকম খেয়ে পড়ে বেচে থাকি। শুধু মাত্র জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যানার, পোষ্টার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে কিছু অর্থের মুখ দেখতে পাই।
কিন্তু এবারে নির্বাচনী বিধিমালায় ভোটের প্রচারণায় পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধের করার কারণে আমরা হতাশ। দীর্ঘদিন পর আনন্দ উল্লাসে প্রার্থীদের পোষ্টার অর্ডার নিবো বলে অগ্রীম টাকা দেওয়া হয়েছে কর্মচারীদের। কেনা হয়েছে পর্যাপ্ত কাগজ। কিন্তু তফসিল ঘোষণার সময় পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করায় সৈয়দপুরের সব প্রেস ব্যবসায়িদের ব্যবসা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
একতা প্রেসের এক কর্মচারী রায়হান বলেন, মনে করেছিলাম আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচনে ওভারটাইম করে বাড়তি আয় করবো কিন্তু সেটা আর সম্ভব না। কারন নির্বাচন কমিশন আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচনে পোষ্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু প্রেস মালিক বা কর্মচারীরাই নয়, নির্বাচনের সময় এরসাথে অনেক বেকার যুবকদের ডেইলি একটা আয় হতো। দিনে অথবা রাতে পোষ্টার সাটিয়ে একেকজন পেতো ৪-৫ শত টাকা। কিন্তু এবারে তারাও বঞ্চিত হয়ে গেলো। রাস্তার পাশে, সুতলিতে লটকিয়ে ও দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার সাটালে মনে হতো এটা শুধু একটা নির্বাচনী আমেজ নয়, মনে হতো ঈদের আনন্দ।
শহরের বাংলা হাইস্কুল মাঠের পুর্ব পার্শে স্মৃতি আর্ট প্রেসের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এমনিতেই ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। ভেবেছিলাম আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচনে পোষ্টার ও ফেস্টুন বানালে কর্মচারীদের বেতন দেয়ার পর কিছু অর্থ জমবে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে পোষ্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় সব স্বপ্ন ভেংগে গেছে। পোষ্টার নিষিদ্ধ না হলে কর্মচারীরা ওভারটাইম করতো। এতে যেমন তাদের আয় বাড়তো, তেমন প্রেসের মালিকরা কোমর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারতো।
শহরের আমিন প্লাজা মার্কেটের ভিতরে আনন্দ প্রেসের মালিক আরমান হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লসের মধ্যে দিন কাটছে। ভেবেছিলাম আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের পোস্টারের কাজ করে লাভের মুখ দেখবো। কিন্তু সেটা আর হলো না। তিনি বলেন, নীলফামারী, কিশোরগঞ্জ সহ আশপাশ এলাকার জেলা উপজেলার সব চেয়ে বড়, ও উন্নত মানের ছাপাখানা রয়েছে সৈয়দপুরে। প্রায় ১৪ টি ছাপাখানা রয়েছে এখানে। জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থীদের পোষ্টার অর্ডার নিয়ে মোটা অংকের অর্থ কামাই করে সারাবছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিবেন। কিন্তু পোষ্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ হওয়ায় সব প্রেস মালিকদের মাথায় হাত পড়েছে।
সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটের ইত্যাদি প্রেসের মালিক মুন্নাও একই রকম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন মানেই ছাপাখানার বাড়তি আয়ের মহোৎসব। কিন্তু এবার সরকারি নিদের্শনায় সেক্ষেত্রে ভাটা পড়েছে। আমরা যেন ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেছি। ভোট উপলক্ষে করা বিনিয়োগ আটকে গেছে। প্রেসগুলোতে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত