প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
নওয়াপাড়ায় বেসরকারি হাসপাতালে নবজাতক বিক্রির অভিযোগ
||
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় অবস্থিত রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, কর্মচারী এবং একটি সংঘবদ্ধ শিশুবিক্রি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের কেফায়েত নগর মাঠপাড়া গ্রামের আবুল শেখ মিস্ত্রির মেয়ে ও মো. টুটুলের স্ত্রী মারুফা খাতুন (৩৬) সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য নওয়াপাড়ার রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, তার সিরিয়াল নম্বর ছিল ১৯৯২ এবং ওই দিনই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি সুস্থ পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জন্মের কিছু সময় পর হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় রহিমা বেগম ও রতনা নামের দুই নারী কৌশলে নবজাতককে মারুফা খাতুনের কোল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে শিশুটিকে ঢাকায় একটি শিশুবিক্রি চক্রের কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রাইভেটকারে করে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা শিশুটি অপারেশনের পর মারা গেছে বলে প্রচার চালায়। তবে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, শিশুর মৃত্যুর পক্ষে কোনো ডেথ সার্টিফিকেট, লিখিত কাগজপত্র বা প্রমাণ তাদের দেখানো হয়নি।
এ বিষয়ে রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালের পরিচালক ডা. আইয়ুব আলী বলেন, অপারেশনের পর মা ও বাচ্চা দু’জনেই সুস্থ ছিল। আমি কোনো ছাড়পত্র দেইনি। কীভাবে শিশুটি হাসপাতাল থেকে বের হলো, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ শিশুবিক্রি সিন্ডিকেট এই হাসপাতালকে ব্যবহার করে আসছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত