প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাজনীতির নামে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না: মিলন
||
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়েছেন।
সোমবার সকাল থেকে তিনি পবা উপজেলার হুজুরিপাড়া ইউনিয়নের আফি নেপাল পাড়া এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন। এর আগে পাকুরিয়া মাঠে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট ও সমর্থন চান। পরে আফি নেপাল পাড়ায় এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন।
সভায় অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নামে একটি দল রাজনীতির নামে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করছে। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ধর্মের নামে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করা যায় না। কে বেহেশতে যাবে আর কে দোজখে যাবে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তাই আমি সবাইকে তাদের বিভ্রান্তিকর কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানাই।
তিনি আরও বলেন, “যাদের প্রকৃত জনসমর্থন নেই, তারাই ভোট কারচুপির পথ বেছে নেয়। বিএনপিকে নিয়ে কথা বলার আগে সংযত হওয়া উচিত।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে মিলন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। কৃষি খাতের উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, পবা–মোহনপুর একটি কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় এখানে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের জন্য একটি কৃষি ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের কৃষি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,
“এলাকার অনেক রাস্তাঘাট জরাজীর্ণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। নির্বাচিত হলে প্রতিটি রাস্তার সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পুরোনো রাস্তা সংস্কার করা হবে।”
সব ধর্মের ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম, পাদ্রী ও পুরোহিতসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের সমালোচনা করে মিলন বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পতিত সরকার জনগণের ওপর অন্যায়-অত্যাচার চালিয়েছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী হত্যা, গুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে রাষ্ট্রকে দুর্বল করা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বসে এখনো বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
দিনভর গণসংযোগে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, হুজুরিপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মিলনের প্রচারণায় নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে এবং অনেকেই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হুজুরিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহাব উদ্দিন, সদস্য সচিব মোতাহার আলী, যুবদল রাজশাহী জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মুজাদ্দেদ জামানী সুমন, যুবদল পবা উপজেলা শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম, সদস্য মাজদার রহমান, পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত