প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
খুলনার নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ও কম ব্যয়ের পরিকল্পনা কার?
||
নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্ত্রী, শ্যালক, ভাই-বোন ও পরিচিতজনের কাছ থেকে অনুদান ও ধার নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের পরিকল্পনা করেছেন খুলনার বিভিন্ন সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস সংক্রান্ত বিবরণী (ফরম-২০) বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, দলগতভাবে জামায়াত প্রার্থীদের জন্য ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রার্থীদের ব্যয়ের পরিমাণে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য।
খুলনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল নির্বাচনে মাত্র ১৪ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন। তার ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে নিজস্ব ব্যবসা।
এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান ব্যয় করবেন ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের সঞ্চয় ৫ লাখ, শ্যালক ২ লাখ, ভাইদের কাছ থেকে ৯ লাখ এবং জামায়াত নেতাদের স্বেচ্ছা অনুদান ৩ লাখ টাকা।
খুলনা-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী আলী আজগর লবী সর্বোচ্চ ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ নিজের ব্যবসা থেকে আসবে।
একই আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ব্যয় করবেন ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে জামায়াত অনুদান ১৫ লাখ, নিজের ব্যবসা থেকে ২ লাখ, ভাই-বোনের কাছ থেকে ৫ লাখ এবং এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা অনুদান নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ব্যয় করবেন ২৬ লাখ টাকা। তার স্ত্রী আইনজীবী সৈয়দা সাবিহা দেবেন ১০ লাখ, গাড়ি ভাড়া থেকে আয় ৮ লাখ এবং বিএনপি নেতা জলিল খান কালাম দেবেন ৮ লাখ টাকা।
খুলনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল নিজের ব্যবসা ও সম্মানী থেকে ১০ লাখ এবং ভাই-ভাতিজাদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা অনুদান নেবেন। জামায়াত প্রার্থী কবিরুল ইসলাম ব্যয় করবেন ৩৫ লাখ টাকা, যার বড় অংশই দলীয় ও পারিবারিক অনুদান।
খুলনা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খান ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভাই-বোন, আত্মীয় ও পরিচিতজনের কাছ থেকে ধার ও অনুদান রয়েছে। জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ব্যয় করবেন ২০ লাখ টাকা।
খুলনা-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিজ ব্যবসা থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ব্যয় করবেন সাড়ে ১৫ লাখ টাকা, যার একটি অংশ স্ত্রী, সন্তান ও ভাইদের অনুদান।
সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, “প্রার্থীরা যে ব্যয়ের পরিকল্পনা জমা দেন, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় হয়। নির্বাচন কমিশনের শুধু কাগজপত্র গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বাস্তব ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি জরুরি।”
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত