প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
পাউবোর জায়গায় গর্ত, আতঙ্কে বটিয়াঘাটার মানুষ
||
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় রাতের আঁধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সররখালী ইউনিয়নের গাওঘরা গ্রামের চরডাংগা স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে তা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চরডাংগা স্লুইস গেট ও ওয়াপদা রাস্তার একেবারে কাছাকাছি এভাবে মাটি কাটায় এলাকাটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে স্লুইস গেট ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের তহশীলদারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গাওঘরা ওয়ার্ডে ৩০ নম্বর পোল্ডারের পাউবোর জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বড় গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও কয়েকটি ট্রাক ভর্তি করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই স্থানটি বিশাল গর্তে পরিণত হয়েছে।
চরডাংগা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, “হঠাৎ করেই মাটি কাটা শুরু হয়। অল্প সময়েই বিশাল গর্ত হয়ে গেছে। এখানে মাটি কাটলে ওয়াপদার রাস্তা ও স্লুইস গেট মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।”
এলাকার জাকারিয়া হোসেন বলেন, “ওয়াপদার রাস্তা থেকে মাত্র ১২-১৪ ফুট দূরে এভাবে মাটি কাটলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তারা কারও কথা শোনেনি।”
সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ রানা জানান, “আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, স্লুইস গেটের একেবারে পাশে মাটি কাটা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শোয়েব শাত ঈল ইভানকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।”
এ বিষয়ে তহশীলদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন,“অন্য জায়গায় উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, তাই বিষয়টি নিয়ে নীরব আছি।”
বটিয়াঘাটা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শোয়েব শাত ঈল ইভান বলেন, “অনুমতি ছাড়া ওই স্থান থেকে কোনোভাবেই মাটি কাটার সুযোগ নেই। সরকারি কাজের কথা বলে মাটি কাটা শুরু করা হয়েছিল, পরে নিষেধ করায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জেনেছি। এরপরও মাটি কাটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে সুযোগ পেলেই মাটি কাটতে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, রাস্তার কাছেই মাটি পাওয়ায় কাজটি সহজ ও সাশ্রয়ী হয়। পাশাপাশি তহশীলদারসহ সওজের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই যদি এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না করা যায়, তবে ভবিষ্যতে ওয়াপদার রাস্তা ও স্লুইস গেট ভেঙে পড়ার গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত