প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৫
১৭ দেশের বাজার হারালো বাংলাদেশের কাঁচাপাট, রপ্তানি কমে গেছে অর্ধেকে
||
গত দুই দশকে বাংলাদেশের কাঁচাপাট রপ্তানি মারাত্মক সংকটে পড়েছে। একসময় ২৯ দেশে রপ্তানি হলেও বর্তমানে তা সীমিত হয়ে মাত্র ১২ দেশে নেমে এসেছে। এতে পাট রপ্তানিকারকরা লোকসানের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ খেলাপির দিকেও ধাবিত হচ্ছেন।
খুলনার দৌলতপুর ও নারায়ণগঞ্জের মোকামগুলোতে এখন মন্দাভাব বিরাজ করছে। মৌসুম শুরু হলেও ব্যাংক নতুন ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। স্থলবন্দরগুলোতে নানা বিধিনিষেধ থাকায় রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাটের বাজার হারিয়েছে বেলজিয়াম, কিউবা, মিশর, এলসালভাদর, ইথিওপিয়া, জার্মানি, হল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, তানজানিয়া, জায়ার, রোমানিয়া ও ফিলিপাইন।
ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম, তিউনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, আইভরিকোস্ট, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে কাঁচাপাট রপ্তানি হচ্ছে।
পাট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন-মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, সরকারের দফায় দফায় রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, করোনা মহামারির প্রভাব, ডলারের দামের অস্থিরতা, এসব কারণে বিশ্ববাজারে কাঁচাপাটের চাহিদা কমেছে।
২০১০-১১ অর্থবছরে ২১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ বেল কাঁচাপাট রপ্তানি হয়েছিল, যার মূল্য ছিল ১ হাজার ৯০৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৯ বেল, যার মূল্য ১ হাজার ৯৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
গাজী জুট ইন্টারন্যাশনালের গাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশের পাট বিশ্বে সেরা মানের হলেও বারবার রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদেশি অনেক মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বাজার হারিয়েছে।"
দৌলতপুর সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের বদরুল আলম মার্কিন বলেন, "বিভিন্ন দেশের মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাহিদা কমেছে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল এখনো আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার।"
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দ জানান, "মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ভালো অবস্থানে নেই। তবে নতুন বাজার সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।"
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত