প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৫
রাজশাহীতে ব্যর্থতার মুখে বিসিক শিল্পপার্ক-২, তিন বছরে কার্যক্রম মাত্র তিনটিতে
||
রাজশাহীর পবা উপজেলায় তিন বছর আগে উদ্যোক্তাদের জন্য চালু করা বিসিক শিল্পপার্ক-২ প্রকল্পটি এখনও জমে ওঠেনি। সরকারি উদ্যোগে তৈরি এই শিল্পপার্কে আজও দেখা মেলেনি প্রত্যাশিত বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের। অতিরিক্ত প্লট মূল্য, ইউটিলিটি সেবার ঘাটতি এবং ব্যাংকিং সহায়তার অভাবে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২২ সালের জুলাই মাসে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক সংলগ্ন ৫০ একর জমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিসিক-২ প্রকল্প। এতে মোট ২৮৬টি শিল্প প্লট থাকলেও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৪৯টি, যার মধ্যে শিল্প কার্যক্রম শুরু হয়েছে মাত্র তিনটিতে। বাকি প্লটগুলো পড়ে আছে অনাবাদি, কোথাও কোথাও গজিয়ে উঠেছে কাশবন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মূল ফটক পেরিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ধারিত প্লটগুলোতেও নেই কোনো কার্যক্রম। প্লটজুড়ে নীরবতা, কাশবনে ফুটে আছে ফুল—শিল্পচাঞ্চল্য নেই বললেই চলে।
স্থানীয় এক শিল্প উদ্যোক্তা জানান, “বেশিরভাগ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কীটনাশক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্য, অথচ সেখানে নেই কোনো কমন ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট)। এ কারণে পরিবেশ বিপদের মুখে পড়তে পারে।”
রাজশাহীর সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান উষা সিল্ক প্রিন্টিং ও উইভিং ফ্যাক্টরি ২০২৪ সালে প্লটের জন্য আবেদন করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, “শুরুর দিকে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি আশানুরূপ নয়। তাই আর এগোইনি।”
সরকারের প্রত্যাশা ছিল, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ঘটবে। বাস্তবে, তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিসিক-২ কার্যত বিনিয়োগশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে।
উদ্যোক্তারা মনে করেন, সময়োপযোগী অবকাঠামো ও কার্যকর সহায়তা ছাড়া এমন প্রকল্পগুলো শুধু জমি দখল করে পড়ে থাকবে, বাস্তব উন্নয়ন হবে না। এখনই উদ্যোগ না নিলে রাজশাহীর বিসিক-২ প্রকল্প পুরোপুরি ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত