মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

খেলা

ক্যাম্প ছাড়ার পরও নীরব রোনালদো

রোনালদোর ‘লাইক’ ঘিরে তোলপাড়, সতীর্থদের সমালোচনায় নতুন বিতর্ক

রোনালদোর ‘লাইক’ ঘিরে তোলপাড়, সতীর্থদের সমালোচনায় নতুন বিতর্ক
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত

পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে হঠাৎ চলে যাওয়ার পর থেকেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। এবার সতীর্থদের আচরণ ও কোচ জর্জ জেসুসের সমালোচনা করা সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ফেলিপে মেলোর একটি ভিডিওতে রোনালদোর ‘লাইক’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মেলোর ভিডিওতে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর প্রতি আচরণের সমালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে লিওনেল মেসি যে সম্মান পান, তার সঙ্গে রোনালদোর পরিস্থিতির তুলনা করেন সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।

মেলো বলেন, পর্তুগিজরা রোনালদোর সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছে এবং আর্জেন্টাইনরা মেসির সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছে, দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

পর্তুগাল দলের সতীর্থদের নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও রোনালদো যতটা সম্মান পান, নিজের জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছ থেকে ততটা সম্মান পান না।

রোনালদোর জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মেলো। তাঁর মতে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন রোনালদোর বিদায় এভাবে হওয়া উচিত নয়।

জর্জ জেসুস প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান জানান মেলো। রোনালদো ও জেসুসের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হলে তিনি রোনালদোর পক্ষ নেবেন বলে জানান সাবেক এই ফুটবলার।

আর এই ভিডিওতেই রোনালদোর ‘লাইক’ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম রোনালদোর অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোনালদো নিজে সরাসরি সতীর্থদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি।

নেশন্স লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন রোনালদো। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলের হয়ে কোনো মিনিট মাঠে না কাটানোর পর থেকেই কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে যান রোনালদো। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস স্বীকার করেন, বেঞ্চে থাকায় রোনালদো অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থানও জানান রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সার সঙ্গে কথা বলেই তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তবে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেননি।

রোনালদো জানিয়েছিলেন, উপযুক্ত সময়ে পুরো সত্য প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসা এবং সতীর্থদের জন্য শুভকামনাও জানান তিনি।

এদিকে মেলোর পাশাপাশি চিলির সাবেক তারকা আর্তুরো ভিদালও রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। জর্জ জেসুসের সমালোচনা করে ভিদাল রোনালদোর মতো একজন খেলোয়াড়ের জাতীয় দল ছাড়ার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে রোনালদোকে ছাড়াই পর্তুগাল মাঠের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত।

মেলোর বিতর্কিত মন্তব্যে রোনালদোর একটি ‘লাইক’ তাই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—পর্তুগাল শিবিরে আসলে কী চলছে?

Image

#ফুটবল #রোনালদো #পর্তুগাল

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


রোনালদোর ‘লাইক’ ঘিরে তোলপাড়, সতীর্থদের সমালোচনায় নতুন বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে হঠাৎ চলে যাওয়ার পর থেকেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। এবার সতীর্থদের আচরণ ও কোচ জর্জ জেসুসের সমালোচনা করা সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ফেলিপে মেলোর একটি ভিডিওতে রোনালদোর ‘লাইক’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মেলোর ভিডিওতে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর প্রতি আচরণের সমালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে লিওনেল মেসি যে সম্মান পান, তার সঙ্গে রোনালদোর পরিস্থিতির তুলনা করেন সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।

মেলো বলেন, পর্তুগিজরা রোনালদোর সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছে এবং আর্জেন্টাইনরা মেসির সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছে, দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

পর্তুগাল দলের সতীর্থদের নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও রোনালদো যতটা সম্মান পান, নিজের জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছ থেকে ততটা সম্মান পান না।

রোনালদোর জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মেলো। তাঁর মতে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন রোনালদোর বিদায় এভাবে হওয়া উচিত নয়।

জর্জ জেসুস প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান জানান মেলো। রোনালদো ও জেসুসের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হলে তিনি রোনালদোর পক্ষ নেবেন বলে জানান সাবেক এই ফুটবলার।

আর এই ভিডিওতেই রোনালদোর ‘লাইক’ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম রোনালদোর অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোনালদো নিজে সরাসরি সতীর্থদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি।

নেশন্স লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন রোনালদো। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলের হয়ে কোনো মিনিট মাঠে না কাটানোর পর থেকেই কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে যান রোনালদো। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস স্বীকার করেন, বেঞ্চে থাকায় রোনালদো অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থানও জানান রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সার সঙ্গে কথা বলেই তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তবে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেননি।

রোনালদো জানিয়েছিলেন, উপযুক্ত সময়ে পুরো সত্য প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসা এবং সতীর্থদের জন্য শুভকামনাও জানান তিনি।

এদিকে মেলোর পাশাপাশি চিলির সাবেক তারকা আর্তুরো ভিদালও রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। জর্জ জেসুসের সমালোচনা করে ভিদাল রোনালদোর মতো একজন খেলোয়াড়ের জাতীয় দল ছাড়ার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে রোনালদোকে ছাড়াই পর্তুগাল মাঠের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত।

মেলোর বিতর্কিত মন্তব্যে রোনালদোর একটি ‘লাইক’ তাই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—পর্তুগাল শিবিরে আসলে কী চলছে?


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত