বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

জোহালসহ অন্য বন্দিদের মুক্তির আহ্বান

ভারতে সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন: ইউএসসিআইআরএফ

ভারতে সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন: ইউএসসিআইআরএফ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আটক ও দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ভারতের আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট (ইউএপিএ) ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানায়।

ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শিখ অধিকারকর্মী জগতার সিং জোহালকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউএসসিআইআরএফ বলেছে, ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার কারণে আটক অন্য ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করা উচিত।

ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর জগতার সিং জোহালকে জামিন দেওয়ার দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানান। তবে যুক্তরাজ্যে ফিরে পরিবারের সঙ্গে তার পুনর্মিলন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দিল্লি হাইকোর্ট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জোহালকে সাতটি মামলায় জামিন দেয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করতে হয়েছে।

২০১৭ সালের নভেম্বরে জগতার সিং জোহালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএসহ বিভিন্ন আইনে মামলা করা হয়। দিল্লি হাইকোর্টের নথিতে দেখা যায়, মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং আদালত জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের আটক ও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফের দাবি, গ্রেপ্তারের আগে জোহাল ভারতের শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্লগে লিখতেন। কমিশনের মতে, এসব লেখালেখি আন্তর্জাতিক আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার আওতায় পড়ে।

আটক অবস্থায় জগতার সিং জোহালকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, ঘুম থেকে বঞ্চিত করা, কষ্টকর ভঙ্গিতে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, এসব নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে জোর করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ইউএসসিআইআরএফ।

সংস্থাটি আরও বলেছে, জোহালসহ ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত মামলায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ইউএসসিআইআরএফের ‘ফ্রাঙ্ক আর. উলফ ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অর বিলিফ ভিক্টিমস লিস্ট’-এ জোহালের নামও রয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফের ভাইস চেয়ারম্যান সিসি হেইল বলেন, জোহালের মামলা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কণ্ঠরোধ বা কারাবন্দি করার ক্ষেত্রে ভারতের বৃহত্তর প্রবণতার উদাহরণ। তিনি উমর খালিদ ও শারজিল ইমামসহ আরও কয়েকজনের দীর্ঘদিনের বিচারপূর্ব আটক নিয়ে উদ্বেগ জানান।

এ ছাড়া উত্তর আমেরিকায় শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রবাসী শিখদের ওপর কথিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইউএসসিআইআরএফ।

#ভারত_খবর #জগতারসিংজোহাল #ধর্মীয়স্বাধীনতা

চেকপোস্ট

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


ভারতে সংখ্যালঘু দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন: ইউএসসিআইআরএফ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আটক ও দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ভারতের আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট (ইউএপিএ) ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানায়।

ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শিখ অধিকারকর্মী জগতার সিং জোহালকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউএসসিআইআরএফ বলেছে, ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার কারণে আটক অন্য ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করা উচিত।

ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর জগতার সিং জোহালকে জামিন দেওয়ার দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানান। তবে যুক্তরাজ্যে ফিরে পরিবারের সঙ্গে তার পুনর্মিলন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দিল্লি হাইকোর্ট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জোহালকে সাতটি মামলায় জামিন দেয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করতে হয়েছে।

২০১৭ সালের নভেম্বরে জগতার সিং জোহালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএসহ বিভিন্ন আইনে মামলা করা হয়। দিল্লি হাইকোর্টের নথিতে দেখা যায়, মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং আদালত জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের আটক ও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফের দাবি, গ্রেপ্তারের আগে জোহাল ভারতের শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্লগে লিখতেন। কমিশনের মতে, এসব লেখালেখি আন্তর্জাতিক আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার আওতায় পড়ে।

আটক অবস্থায় জগতার সিং জোহালকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, ঘুম থেকে বঞ্চিত করা, কষ্টকর ভঙ্গিতে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, এসব নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে জোর করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ইউএসসিআইআরএফ।

সংস্থাটি আরও বলেছে, জোহালসহ ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত মামলায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ইউএসসিআইআরএফের ‘ফ্রাঙ্ক আর. উলফ ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অর বিলিফ ভিক্টিমস লিস্ট’-এ জোহালের নামও রয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফের ভাইস চেয়ারম্যান সিসি হেইল বলেন, জোহালের মামলা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কণ্ঠরোধ বা কারাবন্দি করার ক্ষেত্রে ভারতের বৃহত্তর প্রবণতার উদাহরণ। তিনি উমর খালিদ ও শারজিল ইমামসহ আরও কয়েকজনের দীর্ঘদিনের বিচারপূর্ব আটক নিয়ে উদ্বেগ জানান।

এ ছাড়া উত্তর আমেরিকায় শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রবাসী শিখদের ওপর কথিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইউএসসিআইআরএফ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত