হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের এক নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতে পুলিশের অভিযান চালিয়ে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যা ও ওই বাড়ির গৃহকর্তী দোলেনা বেগমকে আটক না করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সদরের রায়েরপাড়া মহল্লায় ইউপি সদস্যা দোলেনা বেগমের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে এসআই হাদিউল মিয়াসহ একদল পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করা হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে স্থানীয় নারী-পুরুষের বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়িটির আশপাশে জড়ো হন। পরে পুলিশ আটক দুজনকে থানায় নিয়ে যায়। তবে বাড়ির মালিক ইউপি সদস্যা দোলেনা বেগমকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ওই বাড়িতে বিভিন্ন বয়সী পুরুষের যাতায়াত ছিল এবং সেখানে অর্থের বিনিময়ে নারীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অতীতেও কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে ইউপি সদস্যাকে আটক না করার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ তাকে আটক না করার পেছনে প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পুলিশও এমন কোনো অভিযোগ স্বীকার করেনি।
অভিযানে থাকা এসআই হাদিউল মিয়া দুইজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইউপি সদস্যার বাড়িতে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তখনও মামলা রুজু হয়নি। পরদিন আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
আটক ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তখন একটি দরবারে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে পরে তথ্য দেওয়ার কথা বলেন। পরে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকের বক্তব্য জানতে সরকারি মুঠোফোন নম্বর ও মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল প্রশাসনের দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি জানান, আটক যুবক-যুবতীর স্বজনরা তাদের ছাড়িয়ে নিতে যোগাযোগ করেছেন এবং এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ইউপি সদস্যাকে আটক না করার বিষয়টিও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে ইউপি সদস্যার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার যে অভিযোগ তিনি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন, সেটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বানিয়াচং থানার বর্তমান ওসি শেখ নাজমুল হক ২০২৬ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অনিয়ম ও অবৈধ তদবিরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের এক নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতে পুলিশের অভিযান চালিয়ে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যা ও ওই বাড়ির গৃহকর্তী দোলেনা বেগমকে আটক না করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সদরের রায়েরপাড়া মহল্লায় ইউপি সদস্যা দোলেনা বেগমের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে এসআই হাদিউল মিয়াসহ একদল পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করা হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে স্থানীয় নারী-পুরুষের বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়িটির আশপাশে জড়ো হন। পরে পুলিশ আটক দুজনকে থানায় নিয়ে যায়। তবে বাড়ির মালিক ইউপি সদস্যা দোলেনা বেগমকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ওই বাড়িতে বিভিন্ন বয়সী পুরুষের যাতায়াত ছিল এবং সেখানে অর্থের বিনিময়ে নারীদের এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অতীতেও কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে ইউপি সদস্যাকে আটক না করার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ তাকে আটক না করার পেছনে প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পুলিশও এমন কোনো অভিযোগ স্বীকার করেনি।
অভিযানে থাকা এসআই হাদিউল মিয়া দুইজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইউপি সদস্যার বাড়িতে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তখনও মামলা রুজু হয়নি। পরদিন আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
আটক ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তখন একটি দরবারে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে পরে তথ্য দেওয়ার কথা বলেন। পরে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকের বক্তব্য জানতে সরকারি মুঠোফোন নম্বর ও মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল প্রশাসনের দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি জানান, আটক যুবক-যুবতীর স্বজনরা তাদের ছাড়িয়ে নিতে যোগাযোগ করেছেন এবং এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ইউপি সদস্যাকে আটক না করার বিষয়টিও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে ইউপি সদস্যার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার যে অভিযোগ তিনি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন, সেটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, বানিয়াচং থানার বর্তমান ওসি শেখ নাজমুল হক ২০২৬ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অনিয়ম ও অবৈধ তদবিরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন।
