নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। সীমান্ত ঘিরে ধারাবাহিক অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত চার দিনে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এসব ঘটনায় এক নারীসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার ইয়াবাসহ বছির আহম্মেদ (৫০) নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে অংশ নেয় ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
বিজিবির তথ্য মতে আগের রাতেও সীমান্তের ৩৬ নং পিলার এর কাছাকাছি এলাকায় টহল পরিচালনার সময় ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, ঘুমধুম ও বাইশফাঁড়ী সীমান্ত ফাঁড়ির টহল দল পৃথক অভিযানে এসব ইয়াবা জব্দ করে। তিনি বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এছাড়াও ১৮ ফেব্রুয়ারি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত ওই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে এটি বড় আকারের ইয়াবা উদ্ধারের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
এদিকে রামু থানা পুলিশও পৃথক অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছে। একটি নম্বরবিহীন মিনি ট্রাক ধাওয়া করে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়। অন্য একটি অভিযানে একটি বসতবাড়ি থেকে ৭০ হাজার ইয়াবাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মাদক পাচার ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন সালাহউদ্দিন আহমদ। একই দিনে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।একাধিক গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কক্সবাজারের বাসিন্দা হওয়ায় সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জনমনে প্রত্যাশাও বাড়ছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সীমান্ত রুট, রাতের নৌ চলাচল এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ হওয়া সীমান্তপথে মাদক পাচারকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন আগের চেয়ে আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।