
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর সঙ্গে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) যুক্ত হওয়ায় উদ্যোগটি এখন রূপ নিয়েছে ১০ দলীয় বিস্তৃত রাজনৈতিক সমঝোতায়, যা নির্বাচনী অঙ্ক ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই সমঝোতার ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এটি কেবল আসন ভাগাভাগির সমঝোতা নয়; বরং একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান।”
তার ভাষায়, দেশ যখন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন দুর্নীতিমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এই দলগুলো একত্র হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে জোটটি নিজেদের প্রচলিত ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে একটি ‘নৈতিক বিকল্প শক্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে, যা ভোটারদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাগপার নেতৃবৃন্দসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, এনসিপির সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না থাকলেও দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সমঝোতার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। শিগগিরই এনসিপি আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক নতুন দল এনসিপির যুক্ত হওয়া এই জোটকে নাগরিক ও মধ্যবিত্ত রাজনীতির সঙ্গে সংযোগ ঘটানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।
জামায়াত আমির বলেন, “৩০০ আসনের প্রায় সব ক’টিতে সমঝোতা হয়েছে। সামান্য কিছু বিষয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর চূড়ান্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটাকে জোট বলুন বা যাই বলুন—এটা জোটের চেয়েও শক্ত ও মজবুত।”
নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তার ভাষায়, সমতল মাঠ এখনো তৈরি হয়নি এবং অতীতের মতো ভোটাধিকার হরণ হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
জোট নেতাদের দাবি, এটি শুধু নির্বাচনী সমঝোতা নয়; বরং ভবিষ্যতেও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তারা একসঙ্গে আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, জামায়াত–এনসিপি–এলডিপিসহ ১০ দলের এই সমঝোতা বাংলাদেশের জোট রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার সূচনা করতে পারে।