ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯ টায় হাসপাতালের মুখপাত্রের কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ইন্টার্নদের হেনস্তার সাথে জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে পরিচালকের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তারা বলেন, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ রোগীর চাপ সামলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবুও চিকিৎসা দিতে গিয়ে বারবার হামলার শিকার হতে হচ্ছে। যেটি মোটেও কাম্য নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, হুঁশিয়ার দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা।
এদিকে, ভোগান্তির পর অবশেষে চিকিৎসা পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে। চিকিৎসকদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মব্যস্ততার মধ্যে সময় পার করতে দেখা গেছে।
রাকিবুল ইসলাম নামে পাবনা থেকে আসা রোগীর এক স্বজন বলেন, গতকাল আমরা এখানে বেশ ঝামেলার মধ্যে ছিলাম। তবে সকালে চিকিৎসক এসে ওষুধ লিখে দিয়েছেন।
মনিরুল ইসলাম এক রোগী জানান, গতকাল থেকে চিকিৎসা না পেয়ে কিছুটা অসহায় মনে হলেও সকালে চিকিৎসক আশায় কিছুটা ভালো লাগছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, এ ঘটনায় ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিবে। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে, গত সোমবার রাতে চিকিৎসার অবহেলায় এক নারীর মৃত্যু অভিযোগ উঠে। মৃত ওই নারীর নাম, জুলেখা বেগম( ৪৫) তিনি রাজশাহীর চারঘাট এলাকার ধর্মঘটা গ্রামের আলম আলীর স্ত্রী। এনিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ঢাকায় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছেলে সোহেলকে পিটিয়ে জখম করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ওই সময় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রোগীর স্বজনরা মোতাকাব্বির ও মাসুস আলী জানান, গতকাল রোববার মৃত জুলেখা বেগমকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পেট ব্যথা নিয়ে রামকে হাসপাতালে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর তার চিকিৎসা চলতে থাকে, হঠাৎ সোমবার রাত ৮ টার দিকে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে। পরবর্তীতে মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেনাবাহিনীতে কর্মরত সোহেলের ওপর চড়াও হয়।
একপর্যায়ে অন্য ওয়ার্ড থেকে আসা ইন্টার্নরা একত্রিত হয়ে সোহেলকে পিটিয়ে জখম করে আটকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা দিয়ে সোহেলর ছোট ভাই জয়কে গ্রেফতার করেন সেনাবাহিনীর সদস্য সোহেলকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয় সামরিক আইনে বিচারের জন্য।
অন্যদিকে গত রোববার হাসপাতালে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে রোগীর স্বজনদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। যা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।