জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি বলেছেন, " বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নেমে পড়েছে। হাতের কালি না মুছতেই জনগণের দেওয়া ওয়াদা পুরন করেছে সরকার। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম- পুরোহিতদের ভাতা প্রদান সহ ইশতেহার অনুযায়ী খাল পুন:খনন কর্মসুচি শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার বরাবরই কৃষকদের মুল্যায়ন করে এসেছে। সেজন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই সর্ব প্রথম কৃষির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকার কৃষকদের কৃষি ঋন সুদ সহ মওকুফ করে দিয়েছেন। দুপুরে ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়নের টিয়াবুনিয়া খাল পুনঃখননের কাজের উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে " দেশব্যাপী নদী- নালা, জলাধার খনন ও পুনঃ খনন" কর্মসুচির অংশ হিসেবে টিয়াবুনিয়া স্লুইস গেটের খাল পুনঃখনন উদ্ধোধনী সভায় হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, " পুর্বে দেখেছি গতানুগতিক খাল খনন হতে। যতবার খননে বরাদ্দ এসেছে সে টাকা খননের নামে পানিতে মিশে গেছে। এজন্য খাল খননের আগে কৃষকদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। আমরা স্থায়ী সমাধানের পথে যেতে চাই। অতিতে কি হয়েছে সেটা ভুলে যেতে হবে। দেশের উন্নয়নে অতিত ভুলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি,দখলবাজি সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুনীতি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স। তিনি বলেন, স্বচ্ছতার মধ্যদিয়ে খাল খনন হতে হবে। আগামীতে আমরা সরকারি একটি টাকাও অপচয় হতে দিব না। খাল খনন কাজে কোন ধরনের অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সে যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রকিবুল ইসলাম বলেন , আমরা সবাই জানি ডুমুরিয়া সহ বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতার কথা। বৃহৎ এলাকা জুড়ে দীর্ঘ দিন জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এ সমস্যার সমাধান করতে চাই। ইতিপুর্বে এনিয়ে জাতীয় পর্যায়ে উত্থাপন হয়নি। মহান সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন সহ টেকসই উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি, নদী- খাল অবৈধ দখলে রেখে যারা ইটের ভাটা করেছে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। বন্দোবস্তকৃত খালসহ সকল জলাশয়ের ইজারা বাতিল করা হবে।
তাছাড়া যারা নদীর মুখ অবৈধভবে বন্ধ করে মানুষের ক্ষতি সাধন করেছে সেসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, খুলনা জেলা প্রশাসক আ,স,ম জামসেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের নবাগত প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, পাউবোর দক্ষিন পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার। সভা শেষে প্রধান অতিথি কোদাল দিয়ে খালের মাটি কেটে কাজের উদ্ধোধন করেন। উল্লেখ্য ১.৭০ কিলোমিটার খাল খননে ব্যয় হবে ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।