হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের চলমান সংকট, অনিয়ম ও বিভক্তির প্রতিবাদে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ‘দিনরাত’ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সভা শুরুর আগে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সংস্কার আন্দোলনের সদস্য সাংবাদিক আব্দুল হান্নান স্বপনের মৃত্যুতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের পৃথক কমিটি ও পাল্টা কমিটি ঘোষণায় জেলার সচেতন মহল ও প্রশাসনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এতে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কমিটিতে নানা অনিয়ম হয়েছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের বাইরে রেখে মনগড়া সদস্যপদ প্রদান করা হয়েছে। এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় দুই বছর ধরে প্রেসক্লাব কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। তারা এসব সদস্যপদ বাতিলসহ সমন্বিত সংস্কারের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, সংস্কারের দাবি চলমান থাকা অবস্থায় পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর প্রতিবাদে উপস্থিত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সভায় অতীতের একটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করা হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না হয়ে বহিরাগতদের মাধ্যমে জোরপূর্বক তালা ভাঙার ঘটনা ঘটে, যা জেলার মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। তাই কোনো ধরনের সহিংসতা বা অরাজক পরিস্থিতি কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ সমাধানের দাবি জানান তারা।
এ সময় বক্তারা হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবকে একটি সুশৃঙ্খল, নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রেসক্লাব পুনর্গঠন করে প্রকৃত সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আমার সংবাদ ও ডেইলি পোস্ট এর জেলা প্রতিনিধি মীর আব্দুল কাদির।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহিবুর রহমান (দৈনিক প্রভাকর, আরটিভি, আজকের পত্রিকা), মোঃ আব্দুল হান্নান টিপু (দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার), কাজল সরকার (এখন টেলিভিশন), জাহাঙ্গীর রহমান (নাগরিক টেলিভিশন), সাইফ হাসান (দৈনিক খোয়াই), এখলাছ আহমেদ প্রিয় (দীপ্ত টেলিভিশন), আব্দুর নুর বাবুল (দৈনিক গণমুক্তি), মোঃ রিপন মিয়া (দৈনিক পল্লী বাংলা), রেজাউল করিম খাঁন (দৈনিক ভোরের আকাশ), নিরাঞ্জন গোস্বামী শুভ (চ্যানেল ওয়ান), আবুল আহমেদ প্রিয় (দীপ্ত টেলিভিশন), শেখ শাহাউর রহমান বেলাল (আনন্দ টিভি), সৈয়দ সালিক (সময়ের আলো), মোঃ রুবেল মিয়া (দৈনিক প্রভাকর), সাইফুল ইসলাম (ডেইলি মুসলিম টাইমস), নিশান আহমেদ আলফু (চ্যানেল এস), মোঃ রহমত আলী (দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা), এসকে শাহিন (সকালের সময়), বোরহান উদ্দিন রুবেল (স্বদেশ প্রতিদিন), জুয়েল চৌধুরী (বাংলাদেশের আলো), সিরাজুল ইসলাম জীবন (দৈনিক আমার বার্তা), এম. এ রাজা (দৈনিক ভোরের ডাক, এনপিবি), হাবিবুর রহমান শাওন (দৈনিক ঢাকার ডাক), আল আমিন খান (এটিএন নিউজ), সাইফুল ইসলাম (দ্য মুসলিম টাইমস), এ এইচ রুবেল (হবিগঞ্জের বাণী), এম এ জলিল (দৈনিক জনতা) এবং জি কে ইউসুফ (দৈনিক সকাল বেলা)।