হবিগঞ্জ জেলায় ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও সীমান্ত দিয়ে পাচার রোধে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য মজুদ ও পাচারের আশঙ্কায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) জেলার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাসিম হাসানের নেতৃত্বে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চৌধুরী বাজার এবং নবীগঞ্জের শাপলা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন বাজার ও গুদামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় তেলের অবৈধ মজুদ রোধ এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ডিলারদের সতর্ক করা হয়।
এছাড়া ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ফিলিং স্টেশন ও ডিলারদের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কেউ তেল মজুদ করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে। সম্ভাব্য পাচারকারী সিন্ডিকেট ও রুট শনাক্তে বিজিবির গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ৫৫ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে চুনারুঘাট সীমান্তের চিমটিবিল বিওপি এলাকা, মাধবপুর ও বাল্লা এলাকা এবং বাল্লা আইসিপি এলাকায় টহল ও জনসচেতনতা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি সুরক্ষা এবং ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগণকে চোরাচালান প্রতিরোধে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।