
সুন্দরবনে ভ্রমণে এসে একটি রিসোর্টের মালিকসহ তিনজন পর্যটক অপহৃত হয়েছেন। চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকার সুন্দরবনসংলগ্ন কেনুর খাল থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।
পুলিশ, বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অপহৃতরা হলেন, রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং পর্যটক মোঃ সোহেল ও মোঃ জনি। অপহরণের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু মাসুম বাহিনীর সদস্যরা এ অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহৃতদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে কত টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার নারী-পুরুষসহ চারজন পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে আসেন। দুপুরে তারা ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত “রিসোর্ট গোল কানন”-এ কক্ষ বুকিং দিয়ে রাত যাপনের প্রস্তুতি নেন। পরে বিকেলে রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক একটি নৌকায় করে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন।
রিসোর্টসংলগ্ন ওই খাল থেকে সশস্ত্র দস্যুরা নারীসহ পাঁচজনকে জোরপূর্বক তুলে নেয়। রাতের দিকে দুই নারী পর্যটককে ছেড়ে দিয়ে রিসোর্টে ফেরত পাঠানো হলেও রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে দস্যুরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রিসোর্ট মালিকের ছোট ভাই উত্তম বাছাড় বলেন, “আমার ভাইসহ তিনজনকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।”
বন বিভাগের ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী জানান, “অপহরণের খবর আমরা পেয়েছি। তবে কোন দস্যু বাহিনী জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, “সুন্দরবনে অপহৃত রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটককে উদ্ধারে থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
খুলনার পুলিশ সুপার মাহাবুব রহমান জানান, “অপহৃত পর্যটকদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় সুন্দরবনে ভ্রমণরত পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।