রংপুরে মাদককারবার নিয়ে বিরোধের জেরে রাকিব হাসান নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর মাছুয়াপাড়া মোড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রাকিব হাসান কাছনা এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি মহানগর যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং বর্তমান প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদককারবার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তাঁতীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মমিন (৪২) ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাকিবের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিহত রাকিব পূর্বে অভিযুক্ত মমিনের সঙ্গে মাদককারবারে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ রিকশাযোগে এসে মমিন ও তার দলবল রাকিবের ওপর হামলা চালায়। পরে গলা কেটে তাকে হত্যা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, আমার ছেলে বিকেল ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। সাড়ে ৪টার দিকে খবর পাই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, রাকিবকে মাদকসম্রাট মমিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা খুন করেছে। তাদের বিপক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এজন্য এ ঘটনা। এর আগেও তার পা ভেঙে দিয়েছিল। সুস্থ হওয়ার পরে আজকে তাকে খুন করা হয়েছে।
মহানগর যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আজিজুর শেখ বিপ্লব বলেন, নিহত রাকিব ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সদস্য ও বর্তমান প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক পদে রাখা হয়েছে। যারা এ ধরনের সন্ত্রাসী কায়দায় তাকে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মমিন নামের একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ব বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।