
ভোটের রাজনীতিতে কখনো কখনো সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে জনমনের বার্তা। হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে সেই বার্তাই স্পষ্ট, জনগণ আগাম বিজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে।
প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী দলগুলোর আধিপত্য থাকলেও এবারের নির্বাচনী পরিস্থিতি ভিন্ন। মাঠ পর্যায়ের আলোচনা ও ভোটারদের নীরব সমর্থন বলছে—আওয়ামী লীগপন্থি ভোট, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও চা-বাগানের শ্রমিকদের একটি বড় অংশ তাহেরীর দিকে ঝুঁকছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ভোটের একটি বড় অংশ বর্তমানে নেতৃত্বশূন্য। এই শূন্যতায় আস্থা, নিরাপত্তা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে মুফতি তাহেরীকে বেছে নিচ্ছেন বহু ভোটার। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনি শান্তিপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।
চা–বাগান শ্রমিকদের মধ্যেও তাহেরীর প্রতি সমর্থন দিন দিন দৃশ্যমান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ঘটনা, যেমন এক হিন্দু ধর্মগুরুর প্রশংসাসূচক মন্তব্য এবং সাবেক এমপি কারাবন্দি সুমনের ইতিবাচক মন্তব্য, তাহেরীর প্রতি জনমতকে আরও দৃঢ় করেছে।
একটি আলোচিত ঘটনায়, কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের মৃত্যুর পর জানাজা না পড়ানোর হুমকির মধ্যে তাহেরী নিজে জানাজা পড়াবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বীর কিছু নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মব–সন্ত্রাসের অভিযোগ সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ফলে নীরব ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রকৃতপক্ষে তাহেরীর পক্ষে সরে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদে ভারসাম্যপূর্ণ ও নৈতিক কণ্ঠস্বরের জন্য তাহেরী আজ অনেক ভোটারের প্রথম পছন্দ। সুবিধাবঞ্চিত আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের সমর্থকও এই সমীকরণে যুক্ত হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, হবিগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী শুধু প্রার্থী নয়, তিনি জনমনের আস্থা ও মানবতার প্রতীক। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট হলে বিজয় তারই হবে, শেষ সিল কেবল ব্যালট বাক্সে পড়ার অপেক্ষা।